শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
কলাপাড়ায় গভীর রাতে বসতঘর থেকে গৃহবধূ নিখোজ, জনমনে নানা প্রশ্ন হত্যা না গুম ঈদের তৃতীয় দিনে পর্যটকে কনায় কানায় পরিপূর্ন কুয়াকাটা সৈকত সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ,সাধারন সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির কলাপাড়ায় কুইজ প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণদের সন্মাননা ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বরিশাল মহানগর বিএনপির ঈদ উপহার বিতরণ পর্যটক আকর্ষনে ঈদকে ঘিরে কুয়াকাটায় চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি কলাপাড়ায় ঈদের চাঁদ উৎসব কলাপাড়ায় ১১ গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ উদযাপন করছে আগাম ঈদ পটুয়াখালীতে আজ ৩৫টি গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন পালিত হচ্ছে কলাপাড়ায় ৩৪টি এসএসসি ব্যাচের ‘হাইস্কুলিয়ান ইফতার ২০২৫’ অনুষ্ঠিত কলাপাড়া পৌর নির্বাচন।।মেয়র পদে নির্বাচন করতে তৎপর নান্নু মুন্সী কলাপাড়ায় জামায়াতে ইসলামীর আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠিত বাকেরগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বেগম জিয়ার রোগমুক্তির জন্য ইফতার কলাপাড়া সাংবাদিক ক্লাবের ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠান কুয়াকাটায় ১০ দোকানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিএনপি সভাপতির দুই ছেলে
বাচ্চুকে মনে পড়ে খুব

বাচ্চুকে মনে পড়ে খুব

Sharing is caring!

আইয়ুব বাচ্চুর দীর্ঘ সংগীত জীবনের সঙ্গী গীতিকবি শহীদ মাহমুদ জঙ্গী। আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠে তার লেখা বেশকিছু জনপ্রিয় গান পেয়েছেন শ্রোতারা। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) গিটার জাদুকরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। বিশেষ এই দিনে আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ করে বাংলানিউজ পাঠকদের জন্য একটি স্মৃতিচারণমূলক লেখা পাঠিয়েছেন জনপ্রিয় এই গীতিকবি।

আইয়ুব বাচ্চুর ব্যান্ড সংগীতের শুরুটা হয়েছিল চট্টগ্রামের স্পাইডার নামক ব্যান্ডের মাধ্যমে। মাঝখানে ‘হৃদম ৭৭’ এবং পরে ফিলিংসে বাজাতো। ১৯৯৯ সালের দিকে সোলসের লিড গিটারিস্ট সাজেদুল আলম বিদেশ চলে গেলে আইয়ুব বাচ্চু সোলসে লিড গিটারিস্ট হিসাবে যোগ দেয়। সোলসের মূল সুরকার ও কম্পোজার তখন নকীব খান।

নকীব খান একসময় ঢাকা চলে গেলে বাচ্চুর উপর সুর এবং কম্পোজিশনের দায়িত্ব পড়ে।
বাচ্চু আপাদমস্তক মিউজিশিয়ান। কোনো আড্ডা, আলোচনা যা কিছুই হোক না কেনো বাচ্চু থাকলে শেষ পর্যন্ত তা মিউজিকেই গড়াতো। আরও কত স্মৃতি। বাচ্চুকে মনে পড়ে খুব।

আইয়ুব বাচ্চুমনে পড়ছে সোলসের সবার সঙ্গে গিয়েছিলাম চট্টগ্রাম ফরেস্ট হিলে, ছোট-খাটো পিকনিক করতে।
সবাই বিভিন্ন ধরনের আনন্দে মেতে উঠেছি। একসময় দেখি বাচ্চু আমাকে বারবার পাহাড়ের নিরিবিলি প্রান্তে যেতে বলছে, নিতান্ত অনিচ্ছায় তার সঙ্গে গেলাম। বাচ্চুর সঙ্গে সবসময় গিটার থাকতো। বাচ্চু বললো, ভাই সুর করতে ইচ্ছা করছে- লিরিক দরকার।

আমি বললাম, বাচ্চু এখানে পিকনিকে এসেছি, অন্যদিন করি। কিন্তু বাচ্চু নাছোরবান্দা, তার জোরাজুরিতে লিখতে বসলাম। লিখলাম ‘একদিন ঘুম ভাঙ্গা শহরে/মায়াবী সন্ধায়/চাঁদ জাগা একরাতে’- এতটুকু লেখার পর একটু দূরে ঘাসের উপর চোখ পড়লো। দেখি ঘাসের উপর কিছু ফুল পড়ে আছে। বাচ্চুকে বললাম, বাচ্চু ঘুমভাঙ্গা শহরে পড়ে লিখবো, ওই যে ঘাসের উপর ফুল দেখছো তা নিয়ে একটা গান লিখি কেমন? বলেই লিখলাম ‘কি জানি কি এক দিন ছিলো/ ঘাসের দোলায় ফুল ছিল/এলিয়ে চুল তুমি ছিলে/কি জানি কি এক দিন ছিল’- এই গানটি এক বসাতেই লেখা শেষ করলাম এবং অল্প সময়ে বাচ্চু খুব চমৎকার সুর করলো।

বাচ্চুর সঙ্গে প্রচুর কাজ করেছি। মনে পড়ে, সরকারের অনুরোধের কাজও এর মধ্যে পরে। একবার পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে গান করার অনুরোধ আসে। লিখেছিলাম, ‘বাড়ছে মানুষ, বাড়েনি ভূমি’- এইসব গান বিটিভিতে সমাজ সচেতনমূলক গান হিসেবে প্রচার হতো।

বাচ্চুর জন্য প্রথম গান লিখি সত্তুর দশকের শেষের দিকে। বাচ্চু তখন স্কুলের ছাত্র। কখনো কখনো আমরা বন্ধুরা চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি মাঠে আড্ডা দিতাম। সেখানে একদিন বাচ্চু এসে বিভিন্ন কথার পর গান চাইলে, স্কুলে পড়ে বিধায় কিছুটা কৌতুহল নিয়েই তাকে গান দিই। গানের শিরোনাম ছিল ‘হারানো বিকেলের গল্প বলি’। বাচ্চু এই গানটির সুর করে এবং পরে এই গান বাচ্চু সোলসের অ্যালবামে অন্তর্ভুক্ত করে। সোলসের দ্বিতীয় অ্যালবাম থেকে আমরা বক্তব্য প্রধান গান শুরু করি, ৮০ দশকের শুরু থেকে এইসব গানেও বাচ্চুর আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
১৯৯০ সালের শেষ দিকের কথা। ব্লু নাইল হোটেলে সোলসের মিটিং শেষে বাচ্চু সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছিল। আমি উঠছিলাম। কিছুটা বিষন্ন বাচ্চু আমাকে বললো, জঙ্গী ভাই সোলস ছেড়ে দিলাম। ‘একদিন ঘুম ভাঙা শহরে’ চেয়ে নিলাম। দোয়া করবেন। আমি বাচ্চুকে জড়িয়ে ধরে হোটেলের রেস্টুরেন্টে বসালাম। বললাম, তুমি জেনুইন মিউজিসিয়ান- তোমার চিন্তা কী? নতুন ব্যান্ড করবে, তোমার অসুবিধা হবে না। এর কয়েক মাসের মধ্যে বাচ্চু এলআরবি গঠন করলো। বাকিটা ইতিহাস।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © crimeseen24.com-2024
Design By MrHostBD