বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ,সাধারন সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির কলাপাড়ায় কুইজ প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণদের সন্মাননা ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বরিশাল মহানগর বিএনপির ঈদ উপহার বিতরণ পর্যটক আকর্ষনে ঈদকে ঘিরে কুয়াকাটায় চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি কলাপাড়ায় ঈদের চাঁদ উৎসব কলাপাড়ায় ১১ গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ উদযাপন করছে আগাম ঈদ পটুয়াখালীতে আজ ৩৫টি গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন পালিত হচ্ছে কলাপাড়ায় ৩৪টি এসএসসি ব্যাচের ‘হাইস্কুলিয়ান ইফতার ২০২৫’ অনুষ্ঠিত কলাপাড়া পৌর নির্বাচন।।মেয়র পদে নির্বাচন করতে তৎপর নান্নু মুন্সী কলাপাড়ায় জামায়াতে ইসলামীর আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠিত বাকেরগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বেগম জিয়ার রোগমুক্তির জন্য ইফতার কলাপাড়া সাংবাদিক ক্লাবের ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠান কুয়াকাটায় ১০ দোকানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিএনপি সভাপতির দুই ছেলে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ১১ নেতার পদ স্থগিত বাউফলে থানায় মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
পিরোজপুরের জীবনযুদ্ধে জয়ী পাঁচ নারীর গল্প

পিরোজপুরের জীবনযুদ্ধে জয়ী পাঁচ নারীর গল্প

Sharing is caring!

পিরোজপুর ইন্দুরকানী উপজেলায় শিক্ষা, চাকরি, অর্থ, সফল জননী, সমাজ উন্নয়ন ও নির্যাতনের বিভীষিকা কাটিয়ে উঠে নতুন জীবন শুরু করা ক্যাটাগরিতে সাফল্য অর্জনকারী জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন পাঁচ নারী।

স্বপ্নের ডানা মেলে নীল আকাশে ওড়ার সাধ আশৈশব লালিত। দারিদ্র্যপীড়িত সামাজিক সমস্যায় জর্জরিত দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের অবহেলিত উপজেলা ইন্দুরকানীর বিভিন্ন গ্রামে তাদের জন্ম। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধপক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস ২০২১ উদযাপন উপলক্ষে জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ কার্যক্রমের আওতায় জয়িতা সম্মাননা শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হলেন শারমিন হোসেন।

শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি তিনি সামাজিক ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে তথা শিক্ষাবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে নারীশিক্ষা সম্প্রসারণে তিনি রয়েছেন সদা সচেতন। অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী নাজমুন নাহার মুকুল। তিনিও উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের ইব্রাহীম জোমাদ্দারের কন্যা। বিয়ের পরে এইচএসসি পাশ করে ডিগ্রিতে ভর্তি হয়েও শাশুড়ির অসহযোগিতার কারণে পড়াশুনায় আর এগোতে না পারলেও স্বপ্ন দেখতেন কী করে সমাজে নিজের একটা পরিচয় তৈরি করা যায়।

সেই লক্ষ্যে পরিবারের অমতে ঢাকায় এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে ফ্যাশন ডিজাইনের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে গড়ে তোলেন ঐশী বুটিক হাউজ। সেখানে এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। নাজমুন নাহার মুকুল যুব উন্নয়নে প্রশিক্ষণ নেন ব্লক বাটিকের উপর। নিজ পণ্য বিক্রয় করে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্যও অর্জন করেছেন তিনি। ইন্দুরকানী গ্রামের মতিয়ার রহমানের মেয়ে মনিরা বেগম। মাত্র ১২ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়।

বিয়ের এক বছর পরে শুরু হয় পারিবারিক নির্যাতন। শাশুড়ি ছিল তার স্বামীর সৎমা। মনিরার স্বামীকে বিভিন্নভাবে কুপরামর্শ দিয়ে মনিরার উপরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে দেয়। এরই মধ্যে মনিরার কোলজুড়ে এল তিনটি কন্যাসন্তান। পরে স্বামীর চাহিদা অনুযায়ী আরও দুটি সন্তান জন্ম দিতে হয়েছে মনিরার। এত বড় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে লাগলেন তারা। মনিরা তার স্বামীকে বুঝিয়ে শুরু করলেন কাগজের ঠোঙা তৈরির কাজ। আয় থেকে তার সন্তানদের মানুষ করে তুলেছেন। বড় মেয়েকে এইচএসসি, মেজ মেয়েকে এসএসসি, সেজ কন্যাকে অনার্স করিয়ে মাস্টার্স করিয়েছেন এবং ছেলেকে মেট্রিক পাশের পরে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। তাঁর ছোট মেয়ে বর্তমানে দশম শ্রেণিতে পড়ে।

আরেক সফল নারীর নাম উম্মে ছালমা আক্তার। ইন্দুরকানী উপজেলার কালাইয়া গ্রামের আবু ছালেহ মো. আ. রশিদের মেয়ে। অভাবের সংসারে বেড়ে উঠেন অনেক কষ্ট করে। বাবা ছিলেন মাদরাসার শিক্ষক। আয় তেমন ছিল না, তাই তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দেন। স্বামীর বাড়িতেও তেমন ভালভাবে কাটাতে পারেননি ছালমা।

শাশুড়ি ও ননদের নির্যাতন সহ্য করেন। এর মধ্যেই প্রথম সন্তান গর্ভে আসে। শাশুড়ির নির্যাতন তখন আরও বেড়ে যায়। এমনকি গায়ে হাত পর্যন্ত ওঠে। পরে তার স্বামী তাকে সাথে নিয়ে বাড়ি ছাড়েন। তাদের দুইটি সন্তান হয়। স্বামী শাহিন মাতুব্বর ডাকাতদের হাতে নিহত হলে তিনি গ্রামে এসে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিসে ফ্যাশন ডিজাইনের উপর প্রশিক্ষণ নেন।

এরপর টেইলারিংয়ের দোকানে কাজ করেও সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের লাবনী আক্তার সমাজ উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকায় জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন। লাবনী আক্তার তালাকপ্রাপ্ত এক হতভাগ্য নারী। লাবনীর বাবা যৌতুকের টাকার জন্য তার মাকে তালাক দেন। সেই থেকে বাবার আদর-স্নেহ থেকে বঞ্চিত।

মায়ের অন্যত্র বিয়ে হয়। লাবনী চলে যান তার খালার কাছে। তার খালাকেও যৌতুকের জন্য স্বামীর ঘর ছাড়তে হয়েছিল। এরপর অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া চালিয়েছেন। টিউশনি করেছেন। খেয়ে না খেয়ে বর্তমানে লাবনী অনার্স করছেন।

লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি বাল্যবিয়ে, যৌতুক, নারী নির্যাতন ও সমাজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর স্বপ্ন, এ দেশে একদিন যৌতুকের জন্য আর কারও ঘর ভাঙবে না। নারী নির্যাতন যেন দূর হয় সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © crimeseen24.com-2024
Design By MrHostBD