মো.আরিফুল ইসলাম,বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের বীরপাশা গ্রামে এক সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের শ্মশান ও পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী অবসরপ্রাপ্ত সহোদর শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বাউফল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বীরপাশা গ্রামের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত কার্তিক চন্দ্র মিত্রের স্ত্রী গীতা রানী মিত্র এই অভিযোগ তোলেন।
তিনি জানান, তাঁর শ্বশুর শশী ভূষণ মিত্রের মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তি তিন ছেলে—লাল মোহন মাতুব্বর, কার্তিক চন্দ্র মিত্র এবং গণেশ চন্দ্র মিত্র উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেন। এর মধ্যে প্রায় ১৪ বছর পূর্বে গীতা রানীর স্বামী কার্তিক চন্দ্র মিত্র মারা যান।
৩ বছর পূর্বে অপর ভাই গণেশ চন্দ্র মিত্র তাঁর অংশ তাঁরই ভাইপো মিহির কান্তি মিত্রের কাছে দলিল মূলে বিক্রি করে দেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরবর্তীতে, আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে লাল মোহন, কার্তিক ও গণেশ মিত্র—এই তিন ভাই মিলে আব্দুল খালেক মৃধা এবং লতিফ মৃধার কাছে সাড়ে ৪১ কড়া (স্থানীয় মাপ) জমি বিক্রি করেন।
কিন্তু বর্তমানে ক্রেতা খালেক মৃধা ও লতিফ মৃধা সাড়ে ৪১ কড়ার পরিবর্তে ৪৮ কড়া জমি জোরপূর্বক ভোগ দখল করছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে।
গীতা রানী মিত্র অভিযোগ করেন, ওই সাড়ে ৪১ কড়া জমির বাইরে তাঁদের পারিবারিক শ্মশানটি অবস্থিত। যেখানে শশী ভূষণ মিত্রসহ পরিবারের ৩ জন সদস্যের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে এবং তাঁদের স্মৃতি রক্ষিত আছে।
প্রভাবশালীরা এখন সেই শ্মশানের জমিও নিজেদের দাবি করে দখল করে নিয়েছেন। শ্মশানের সমাধি গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন গীতা। জানা গেছে, প্রায় দুই যুগ আগে বিউটি মিত্র নামের এক পারিবারিক সদস্যের বিয়ের সময়ে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক মৃধার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা ধার নেওয়া হয়েছিল।
বিভিন্ন সময়ে ধারের টাকা পরিশোধ করতে চাইলেও খালেক মৃধা টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানান।
ধারের ৩ হাজার টাকার বিষয়টি নিয়ে ২৪ সালের ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী সময়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহীন হাওলাদার একটি শালিস বৈঠক করেন।
সেই শালিসে দীর্ঘদিনের পুরনো ধারের বিষয়টি ৬০ হাজার টাকায় নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। আব্দুল খালেক মৃধা ও লতিফ মৃধা স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। অভিযোগের বিষয়ে আ: খালেক মৃধার মুঠোফোনে (০১৭২৮৭৯৮৯২০) একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, “হিন্দু পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মো.আরিফুল ইসলাম
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি