বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:২৭ অপরাহ্ন
দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে রবিবার (৩ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে সাগর ও নদীতে শুরু হয়েছে ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। মা ইলিশের বাধাঁহীন প্রজননের জন্য ২০০৬ সাল থেকে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে সরকার। এতে বেড়েছে ইলিশের উৎপাদন। যার সুফল ভোগ করছেন ক্রেতা বিক্রেতা সহ ইলিশ সম্পদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে। ইতিমধ্যেই মহিপুর ও আলীপুরের শিববাড়িয়া নদীতে এসে পৌঁছেছে সমুদ্রগামী মাছধরা হাজারো ট্রলার। তবে অবরোধকালীন সময়ে জেলেদের দেয়া প্রনোদনা বাড়ানোসহ প্রতিবেশী দেশের জেলেদের অবরোধ কালীন সময়ে মাছ ধরা বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন জেলে ও ব্যবসায়ীরা।
উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশের ইলিশ সম্পদ আহরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই কলাপাড়া উপজেলায়। ইলিশ আহরণ এবং বিপননের জন্য ঐতিহ্যবাহী স্থান উপজেলার মহিপুর এবং আলীপুর মৎস্য বন্দর। ইলিশ মাছ সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসের চারটি আমাবস্যা-পূর্নিমায় বেশি ডিম দেয়। তাই ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে এই সময় ২২দিনের নিশেধাজ্ঞা দেয়া হয়। ইলিশ প্রজনন মৌসুমে ৪ অক্টোবর থেকে শুরু করে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ সময়কালে সারাদেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত করন, ক্রয়-বিক্রয় এবং বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। সেই সাথে আইন অমান্য করলে ১ থেকে ২ মাসের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে বলে জানা গেছে। এ লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সভা এবং সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত মহিপুর এবং কুয়াকাটার চারটি গ্রামে জেলেদের মধ্যে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়েছে।
মহিপুর মৎস্য ব্যাবসায়ী ও ট্রলার মালিক মনির হোসেন বলেন, আমাদের দেশে যখন নিশেধাজ্ঞা থাকে ঠিক সেই সময় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের জেলেরা সমুদ্রে বাংলাদেশ সীমানার কাছে মাছ শিকার করে। এতে করে আমাদের জেলেরা নিশেধাজ্ঞার পরেও আশানুরূপ মাছ পায়না। তিনি এ সমস্যা সমাধানে ভারতের সাথে সমন্বয় করেই মাছ ধরায় অবরোধ কর্মসূচি গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
কুয়াকাটা আলীপুর মৎস্য বন্দর সমবায় সমিতির সভাপতি মো.আনসার উদ্দিন মোল্লা জানান, চার অক্টোবর থেকে ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২২ দিনের অবরোধ থাকায় ইতিমধ্যেই মাছ ধরা ট্রলার সমূহ শিববাড়িয়া নদীর পোতাশ্রয়ে নোঙ্গর করে রয়েছে। অবরোধ কালীন সময়ে জেলেদের বিকল্প জীবিকার নিশ্চয়তা প্রদান করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, ইলিশ প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে টাস্কফোর্স কমিটির সভা সহ মহিপুর এবং কুয়াকাটা জেলে পরিবারের মধ্যে একাধিক সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পটুয়াখালী জেলার নিবন্ধিত ৬৩ হাজার ৮শ‘ ইলিশ শিকারী জেলেদের ২৫ অক্টোবরের মধ্যে ২০ কেজি করে চাল প্রদান করা হবে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।