শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৩৬ অপরাহ্ন
হঠাৎ করেই বরিশাল নগরসহ গ্রামে-গঞ্জে মাথা ন্যাড়া করার হার বেশ বেড়েই চলেছে। রীতিমতো মাথা ন্যাড়া করার হিড়িক পড়েছে বলা চলে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি লক্ষ করা গেছে। শুধু ন্যাড়া হয়েই ক্ষ্যান্ত হচ্ছেন না, নানা ভঙ্গিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সেই ন্যাড়া মাথাসহ ছবি পোস্ট করছেন তারা।
করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে এমন দৃশ্যে বেশ কৌতূহলের সৃষ্টি হলেও যারা ন্যাড়া হচ্ছেন তারা বলছেন নিছক মনের বাসনা কিংবা ভালো লাগা থেকেই এমনটা করছেন তারা। আবার অনেকে জানিয়েছেন, পাশের বা পরিচিত কারও একজনের ন্যাড়া হওয়া দেখে তিনিও উৎসাহিত হয়েছেন।
এভাবে সম্প্রতি ন্যাড়া হওয়ার মধ্যে তরুণদের পাশাপাশি বরিশালের বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী, সাংস্কৃতিক কর্মী, ছাত্রলীগ নেতা, চাকরিজীবী, শ্রমজীবীসহ অনেকেই রয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই ন্যাড়া হওয়ার পর কোনো না কোনো ভঙ্গিতে ছবি তুলে দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
গরমের এমন সময়টাতে প্রতিবছরই গ্রুপ বেধে একই বয়সের তরুণদের মাঝে ন্যাড়া হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। যদিও চলতি সময়ে ন্যাড়া হওয়া তরুণরা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গৃহবন্দি থাকতে হচ্ছে। যে যার মতো নিজ বাড়িতে থাকছেন, কবে নাগাদ বাইরে বের হতে পারবেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন তা কারো জানা নেই। এমন সুযোগে তাই মাথা ন্যাড়া করে নিচ্ছেন।
বরিশাল সদর উপজেলার লামচরি এলাকার বাসিন্দা রাসেল হোসেন জানান, তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি একটি চাকরি করেন। বর্তমান পরিস্থিতি তাদের বাড়ির সবাই নিজ ঘরেই আছেন। দিনের বেলা ঘর থেকে বের হয়ে উঠান কিংবা বাগানের বাহিরে কোথাও যাচ্ছেন না। বাড়িতেও কেউ আসছে না। এই সুযোগে তারা সমবয়সি কয়েকজন মিলে মাথা ন্যাড়া করেছেন। আর ন্যাড়া করার পর বিষয়টি একটু ভিন্ন রকম হওয়ায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ছবি তুলে ফেসবুকে পোষ্ট করেছেন।
নগরের রুপাতলী এলাকার মেহেদি হাসান বলেন, চুল বড় হয়ে গেছে, সেলুনসহ সবকিছু বন্ধ থাকায় কাটার সুযোগ নেই। তার ওপর গরম বেড়েছে, ফলে মাথা ঘামা, চুলকানোর প্রবণতাও বেড়েছে। তাই এক স্বজনের সহায়তায় মাথা ন্যাড়া করেছি।
এর বাইরে কেউ কেউ চুল পড়া রোধ করার জন্য ন্যাড়া হয়েছেন এবং হচ্ছেন। তবে সবকিছুর পেছনে সেলুন বন্ধ থাকার কারণটাই মুখ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যদিও দীর্ঘদিন সেলুন বন্ধ থাকায় নরসুন্দররা খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল জেলা নরসুন্দর কল্যাণ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রতন চন্দ্র শীল।
তিনি বলেন, একমাত্র সেলুন যেখানে সামাজিক দূরত্ব কোনোভাবেই নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নরসুন্দরদের সাধারণ মানুষদের কাছে গিয়েই চুল কাটা কিংবা সেভ করার কাজটি করতে হয়। সেখানে যদি কেউ করোনায় আক্রান্ত থাকেন, তাহলে ওই নরসুন্দরসহ পরে সেলুনে আসা বহু লোক এতে আক্রান্ত হতে পারেন এই চিন্তা থেকে সরকারি নির্দেশনা মেনে গত ২৫ মার্চ থেকে গোটা বরিশাল জেলায় সেলুন বন্ধ হওয়া শুরু হয়, ২৬ মার্চ পুরোপুরি সেলুনগুলো বন্ধ হয়ে যায়।