মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে বরিশাল বেসরকারি সার্ভেয়ার এসোসিয়েশন অনৈতিক ভিডিও ভাইরলের ঘটনায় খেপুপাড়া  বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত কলাপাড়ায় ১৪ হাজার টাকার জাল নোটসহ যুবক গ্রেফতার লৌহ শ্রমিকদল বরিশাল মহানগর ৪ নং পলাশপুর শাখার ইফতার অনুষ্ঠিত ছাত্রদল বিএম কলেজ শাখার ইফতার মাহফিল দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত কলাপাড়ায় ইউএনওর নাম করে নিয়াগে ঘুষ নেয়ার ভিডিও ভাইরাল জিয়া মঞ্চ বরিশাল মহানগরের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কলাপাড়ায় গৃহবধুকে চুবিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ মেহেন্দিগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও অগ্নি নির্বাপক মহড়া জাতীয়তাবাদী বন্ধু ফোরাম বরিশালের ইফতার এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত সংসদ সদস্য কোন ক্ষমতার বিষয় না, এটা একটা দায়িত্বের বিষয়… এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি ইলমুল ক্বিরাত ও ইসলামী জ্ঞান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শেবাচিমে কুরআন বিতরণ ও রমাদান সেমিনার অনুষ্ঠিত সম্পাদক পদে এবারের চমক এ্যাড আব্দুল মালেক
শেবাচিমের আইসিইউ: ডাঃ নয়নের মৃত্যুতে তদন্ত কমিটি

শেবাচিমের আইসিইউ: ডাঃ নয়নের মৃত্যুতে তদন্ত কমিটি

Sharing is caring!

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) ভেন্টিলেটর মেশিন (কৃত্রিম উপায়ে শ্বাসপ্রশ্বাস দেওয়ার যন্ত্র) বিকল থাকার কারনে চিকিৎসক রোগীর সেবা দিতে না পারায় মৃত্যুর অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহষ্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন। তিনি জানান, ডাঃ মারুফ হোসেন নয়নের মৃত্যুতে কোন ধরণের গাফিলতি ছিলো কিনা তা খতিয়ে দেখবে এ তদন্ত কমিটি।

তিনি আরো জানান, হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ জসীম উদ্দিন হাওলাদারকে প্রধান করে চার সদস্যের ওই কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। কমিটির বাকী সদস্যরা হলে, অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ শফিকুল ইসলাম, মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ ইমরুল কায়েস ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাশরেকুল ইসলাম।

উল্লেখ্য শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যার কারনে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ও ডায়বেটিক হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ মারুফ হোসেন নয়ন গত মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হন।

পরের দিন সকালে তার অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউ ইউনিটে নেয়া হয় কৃত্রিমভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস দেয়ার জন্য। স্বজনদের অভিযোগ, তাকে ওই ইউনিটে নেয়ার পর কৃত্রিম উপায়ে শ্বাসপ্রশ্বাস দেয়ার সবকয়টি যন্ত্র অর্থাৎ ভেন্টিলেটর মেশিন নষ্ট থাকায় তা আর সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বললে দ্রুত তাকে ওয়ার্ড থেকে ঢাকায় নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু এরআগেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন প্রয়াত চিকিৎসকের বাবা মোশারেফ হোসেন।

এদিকে এভাবে নয়নের মৃত্যুতে চিকিৎসক সমাজের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে আজ তদন্ত কমিটি করে হাসপাতাল প্রশাসন। পাশাপাশি শোক জানিয়েছে স্থানীয় বিএমএ ও স্বাচিপসহ বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠন। তবে প্রশ্ন উঠেছে ২ বছরের ব্যবধানে একে একে ১০ ভেন্টিলেশন মেশিন নষ্ট হলেও একটিও মেরামতের কেন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আর এতো অল্প সময়ে মেশিনগুলো নষ্ট হওয়ার পেছনে কারো হাত ছিলো কিনা তাও খতিয়ে দেয়ার দাবী উঠেছে।

এবিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক জানান ভেন্টিলেটর মেশিন নষ্ট হওয়ার বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই জানিয়ে আসা হচ্ছে।  মেশিন সরবরাহকারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা একবার এসে তিনটি ভেন্টিলেটর সচল করে দিয়ে যান। কিন্তু কিছুদিন পরে তা আবার বিকল হয়ে পড়ে। আর আইসিইউ’ বর্তমান অবস্থাও কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে, যাতে দ্রুত এর সমাধান ঘটে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালের পূর্ব দিকের নতুন দ্বিতল ভবনের নিচতলায় ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই নিবির পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু করা হয়। ইউনিটটি চালুর সময় থেকেই রোগীদের জন্য ১০টি আইসিইউ বেড, ১০টি বড় আকারের ভেন্টিলেটর মেশিন, ৩টি ছোট আকারের ভেন্টিলেটর ও মনিটর সরবরাহ করা হয়।

কিন্তু একে একে সবকয়টি ভেন্টিলেটর মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে এখানে আসা মুমূর্ষু রোগীদের চলে যেতে বলা হয় ঢাকায়। আর গোটা দক্ষিনাঞ্চলের একমাত্র বিভাগীয় এ হাসপাতাল ছাড়া আর কোথায় আইসিইউ ইউনিট না থাকায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মুমুর্ষ ওইসব রোগীদের মৃত্যুর শঙ্কা রয়েছে।

ওয়ার্ডটির দায়িত্বরত সাবেক ও বর্তমান সেবক-সেবিকারা বাংলানিউজকে বলেন, গত ২ অক্টোবর আইসিইউ’র নতুন নার্সিং ইনচার্জ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওইদিন তিনি ১০টির মধ্যে দুইটি ভেন্টিলেটর মেশিন সচল অবস্থায় পান। তার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাস পর আরও একটি ভেন্টিলেটর মেশিন নষ্ট হয়ে যায় এবং সর্বোশেষ ১০ ডিসেম্বর বাকী একটিতেও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।

ফলে এখন এ ওয়ার্ডটিতে রোগীর সেবা প্রদান একরকম বন্ধই রয়েছে। এদিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ আইসিইউ’র জন্য সময়ের তাগিদে এখন যেমন ইলেকট্রিক ভেন্টিলেশন মেশিন, উন্নতমানের মনিটর (যেখানে হার্টবিট, ব্লাড প্রেসার, ফুসফুসের-লিভারের কার্যকারিতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ সম্ভব) প্রয়োজন; তেমনি এজিবি মেশিন, ইলেক্ট্রোলাইট পর্যবেক্ষণ মেশিন, পোর্টেবল এক্সরে, পোর্টেবল আল্ট্রাসনোগ্রাম, পোর্টেবল ভেন্টিলেটর মেশিনেরও প্রয়োজনীতা রয়েছে।

পাশাপাশি আইসিইউ রুম অথবা এর পাশেই ডায়ালাইসিস ফ্যাসিলিটেট রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং মেশিন, সিটি স্ক্যান, ইকোকার্ডিওগ্রাফি মেশিন থাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

অপরদিকে ওয়ার্ডটিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবক-সেবিকা ছাড়া চিকিৎসক নিয়েও রয়েছে সংকট। ওয়ার্ডটিতে কমপক্ষে ১০ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন দেখা দিলেও রয়েছেন মাত্র একজন চিকিৎসক। অধ্যাপক থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও মেডিক্যাল অফিসার, কোনো পদেই নেই চিকিৎসক।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © crimeseen24.com-2024
Design By MrHostBD