শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
মোঃনাসির উদ্দিন বিষেশ প্রতিনিধি, পটুয়াখালীঃ
মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে সহকারী অধ্যাপক ও গলাচিপা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ এবং তার পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মরিয়ম আক্তার গত ৩০ ডিসেম্বর মো. হারুন অর রশিদসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে গলাচিপা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রতনদী মৌজার চারটি দাগের জমি সাংবাদিক হারুন অর রশিদের পিতা আপ্তার আলী হাওলাদার ১৯৮১ সালে নজরুল প্যাদাসহ ছয় ভাই-বোনের কাছ থেকে ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ ক্রয় করেন।
বর্তমানে সেখানে দুটি বসতঘর রয়েছে এবং হারুন অর রশিদের দুই ভাই ওই জমিতে বসবাস করছেন।
দিয়ারা জরিপে সাংবাদিক ও প্রভাষক হারুন অর রশিদ, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন ও আবুল কাশেমের নামে ৪৫ শতাংশ জমি রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।
হারুন অর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য কাইয়ুম মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
গত সোমবার কাইয়ুম মাহমুদ জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণ করতে গেলে বাধা দিলে তার নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায়।
এ হামলায় হারুন অর রশিদ, তার ভাই আবুল কাশেম, ভাইয়ের ছেলে আফ্রিদি ও অনিক এবং ভাইঝি অনু গুরুতর আহত হন।
আহত আফ্রিদি ও অনু বর্তমানে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় গত ২৯ ডিসেম্বর হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে গলাচিপা থানায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও জানান, মরিয়ম আক্তার দায়ের করা মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মামলায় ঘটনার সময় সকাল সাড়ে ১১টা উল্লেখ করা হলেও আহত আফ্রিদি সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে এবং অনু ১০টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি হয়।
এছাড়া প্রকৃত হামলার ঘটনাটি ঘটে গলাচিপা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বিরোধীয় জমিতে, অথচ মামলায় ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে, যা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে।
মামলার বিভিন্ন তথ্যে গুরুতর অসংগতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। মামলার ১০ নম্বর আসামি লুৎফুন নাহার একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, যিনি ঘটনার সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন।
১২ নম্বর আসামি সিনহার বয়স মামলায় ২০ বছর উল্লেখ করা হলেও তার প্রকৃত বয়স ১৪ বছর এবং সে ওই সময় অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিল। ১৪ নম্বর আসামি নাসির মাস্টার একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, যিনি দেড় বছর ধরে গলাচিপার বাইরে অবস্থান করছেন।
এমনকি মামলায় নাসির মাস্টারের স্ত্রী রুজি আক্তারের বয়স ৪০ বছর উল্লেখ করা হলেও তার মেয়ের বয়স দেখানো হয়েছে ৩৮ বছর, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মামলায় উল্লেখিত ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন (আনু মোক্তার) বলেন, কাইয়ুম মাহমুদ একজন ভূমিদস্যু।
তার বসতঘরের আশপাশে কোনো ধরনের ঘটনা ঘটেনি। একই বক্তব্য দেন রতনদী এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল মিয়া।
তিনিও জানান, কাইয়ুমের বাড়িতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সহকারী অধ্যাপক মো. হারুন অর রশিদ বলেন, “মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে।
আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি।” এ বিষয়ে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জিল্লুর রহমান জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।