শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৪ অপরাহ্ন
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নুরুল হক নূরকে নৌ পরিবহন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখতে চাওয়ার পক্ষে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে জোরালো জনমত গড়ে উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। জেলার বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ, নাগরিক ফোরাম ও সংবাদভিত্তিক পেইজে পরিচালিত জনমত জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ উপকূলীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নৌ পরিবহন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং পানি সম্পদ—এই তিন খাতেই তাকে দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে জেলার জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনমত যাচাইয়ে দেখা গেছে, স্থানীয় বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ায় এই তিনটি খাতকেই পটুয়াখালীর উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছেন সাধারণ মানুষ। উপকূলীয় চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মতে, প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের কারণে জীবন-জীবিকা ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়ে।
ফলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র বৃদ্ধি, দ্রুত ত্রাণ বিতরণ এবং কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
নদীপাড়ের পরিবারগুলো দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প, পুনর্বাসন পরিকল্পনা এবং ভাঙনরোধে স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন। জেলার বিভিন্ন বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান বলেছেন, নৌ যোগাযোগ উন্নত হলে পণ্য পরিবহন সহজ হবে, সময় ও ব্যয় কমবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে।
নৌযান শ্রমিকরা নিরাপদ ও আধুনিক ঘাট নির্মাণ, নৌরুট সংস্কার এবং নতুন লঞ্চ ও ফেরি সার্ভিস চালুর বিষয়টিকে জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন।
রাঙ্গাবালী মৎস্যজীবী সমিতির নেতা রাসেল বলেন, নদী ও খাল পুনঃখনন, জলপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং তাদের জীবিকা আরও স্থিতিশীল হবে।
কৃষকদের দাবি, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় প্রায়ই ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়; তাই পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নিলে কৃষি উৎপাদনে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা৷ ফারহানা জলি ও তরুণ সংগঠক জহিরুল ইসলাম বলেন, নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশ মনে করছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ অবকাঠামো ও দুর্যোগ সহনশীল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন শিল্প ও পর্যটনের সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংগঠনের সদস্য হাসিবুর রহমান বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনাই পটুয়াখালীর ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সম্ভাব্য দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই স্থানীয়ভাবে এ নিয়ে আগ্রহ ও প্রত্যাশা বেড়েছে।
স্থানীয় নাগরিকদের মতে, নৌ যোগাযোগ উন্নয়ন, নদীভাঙন প্রতিরোধ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দুর্যোগ ঝুঁকি কমানোর মতো বিষয়গুলো সরাসরি পটুয়াখালীর অর্থনীতি, কৃষি, মৎস্য ও জনজীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
সামগ্রিকভাবে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, উপকূলীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করা গেলে পটুয়াখালীর অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দুর্যোগ নিরাপত্তাসহ সবক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন জেলার সর্বস্তরের জনগণ।
এবিষয়ে নুরুল হক নূর বলেন, “মানুষের এই ভালোবাসা ও প্রত্যাশা আমার জন্য বড় দায়িত্ব। আমি যেখানেই থাকি না কেন, উপকূলীয় মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে কাজ করে যাব।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নদী রক্ষা ও নিরাপদ নৌ যোগাযোগ এই তিনটি বিষয় আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
মু,হেলাল আহম্নেদ(রিপন)