বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৩০ অপরাহ্ন
ক্রাইম সিন ডেস্ক: বরিশাল জেলার দশটি উপজেলায় কৃষি কাজে নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ঘরের কাজের পাশাপাশি কৃষি কাজেও পুরুষের সাথে সমানতালে শ্রম দিচ্ছেন নারীরা। তবুও পারিশ্রমিকের দিক বিবেচনায় এখনও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন নারী শ্রমিকরা।
সূত্রমতে, পূর্বে গ্রামীণ জনপদে শুধু পুরুষরাই মাঠে কৃষি কাজ এবং নারীরা রান্নাবান্না আর সন্তান লালনপালন নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। বর্তমানে প্রত্যক্ষভাবে পুরুষের সমান মাঠে কৃষিকাজে এগিয়ে এসেছেন নারীরা। তারা পুরুষের সঙ্গে সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছেন। খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদনে জমিতে ধানের বীজ রোপন থেকে শুরু করে আগাছা বাছাই, সার দেওয়া, ধান কাটা ও মাড়াই, রবিশস্য উৎপাদন, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি পালন, সবজি ও মৎস্য চাষ এবং বনায়নের কাজেও নারীরা পুরুষের পাশাপাশি সমান অবদান রাখছেন।
জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নারী শ্রমিক রয়েছেন উজিরপুর ও আগৈলঝাড়া উপজেলায়। ওই দুই উপজেলায় প্রায় দুই সহস্রাধীক নারী শ্রমিক পাশ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে পুরুষ শ্রমিকদের সাথে শ্রম বিক্রি করতে যাচ্ছেন। নিজ নিজ উপজেলায়ও নারী শ্রমিকরা কৃষিক্ষেত্রে শ্রমিকের কাজ করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফসলের ক্ষেতে ধানের বীজ রোপণ করা থেকে শুরু করে সার দেওয়া, আগাছা দমন, কীটনাশক ছিটানো, ধান কাটা ও মাড়াইর কাজ করছেন নারী শ্রমিকরা। অনেকেই আবার বাড়ির পাশে বা উঠানে অনাবাদি জায়গায় শাক-সবজি, ফল-ফলাদির আবাদ করে সংসারে বাড়তি রোজগারের পথ খুঁজে নিয়েছেন। হাঁস-মুরগি পালন থেকে শুরু করে কৃষির প্রায় সবক্ষেত্রেই নারীর অবদান বেড়ে চলেছে।
তবে এসব নারী শ্রমিকদের দাবি, এখনো তারা পারিশ্রমিকসহ বিভিন্নভাবে বৈষ্যমের শিকার হচ্ছেন। সরকারীভাবে কৃষি উপকরণ, সারবীজ, কৃষক কার্ড ও ঋণের বেশিরভাগ সুবিধা পুরুষ কৃষক পেলেও বঞ্ছিত হচ্ছেন নারী কৃষকরা। ভূমির মালিকানা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুরুষের হাতে থাকায় এখনও গ্রামীণ সমাজে কৃষি ও চাষের কাজকে নারীর প্রাত্যহিক কাজের অংশ বলে বিবেচনা করা হয়।
আগৈলঝাড়া উপজেলার ঐচারমাঠ গ্রামের নারী শ্রমিক সাবিত্রী রানী বলেন, পুরুষ শ্রমিকের সাথে সমানভাবে কাজ করেও আমরা সমানভাবে মজুরী পাচ্ছিনা। পারিশ্রমিকের দিক দিয়ে আমরা চরম বৈশম্যের শিকার হচ্ছি।
উজিরপুরের পশ্চিম সাতলা গ্রামের মাধুরী রানী বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে বীজ ক্ষেত থেকে বীজ তোলা থেকে শুরু করে জমিতে বীজ রোপন, আগাছা পরিস্কার, সার বোনার কাজ করছি পুরুষ শ্রমিকের সাথে সমানতালে। অথচ সেখানে পুরুষ শ্রমিকের মজুরী ৫০০ টাকা হলেও আমরা নারীরা পাচ্ছি ৩০০ টাকা।
এ ব্যাপারে সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, বাংলাদেশ সংবিধানের ২৮নং অনুচ্ছেদে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকারের নিশ্চয়তার কথা বলা হয়েছে। নারীর সমঅধিকার ও সমমূল্যায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সকলকে সচেতন হতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন