সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৩৫ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
কলাপাড়ায় শাপলা কাব ও প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পরীক্ষা-২০২৬ অনুষ্ঠিত অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন বিএনপি এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রী চেয়ে জোরালো দাবি উপকূলবাসীর ভোটে জিতে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মিলাদ বিশ্ব ভালোবাসা দিবসেও পর্যটক শূন্য কুয়াকাটা বাউফলে নির্বাচন পরবর্তী সৌহার্দপূর্ণ আচারন এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পটুয়াখালী জেলার তিন এমপির তালিকায় কে কে হবেন মন্ত্রী পরিষদের সদস্য পটুয়াখালী -৩ নুরকে নৌ-ত্রাণ-পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেখতে জনমত তুঙ্গে কলাপাড়ায় অটো-রিকশার ধাক্কায় এক শ্রমিকের মৃত্যু বাউফলে নির্বাচনের মাঠ উত্তপ্ত “বিএনপি জামায়াতের সংঘর্ষ” আহত ৪ খণ্ড খণ্ড মিছিলের মধ্য দিয়ে বরিশাল-১ আসনে নির্বাচনী প্রচার–প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জ হির উদ্দিন স্বপন ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগে কলাপাড়া ৯৯ ব্যাচ গন অধিকার পরিষদ, ইসলামি শাসন তন্ত্র ও জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে অভ্যন্তরীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত ‎ বিগত ১৭ বছর ধরে যেখানে কোন উন্নয়ন হয়নি, সেখানে উন্নয়ন করতে চাই: জহির উদ্দিন স্বপন
গ্রাম বাংলার উপকারী তালগাছ রোপনে নেই কারো আগ্রহ!

গ্রাম বাংলার উপকারী তালগাছ রোপনে নেই কারো আগ্রহ!

Sharing is caring!

মু,হেলাল আহম্মেদ(রিপন)পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ গ্রাম বাংলার সুপরিচিত ঐতিহ্যবাহী তালগাছ কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। তালগাছে এখন আর দেখা যাচ্ছে না বাবুই পাখির বাসা। বাংলা সাহিত্যে তালগাছ নিয়ে রয়েছে নানা গল্প, কবিতা ও ছাড়া। এক সময় উপকূলীয় গলাচিপার বিভিন্ন বাড়ি ও রাস্তার দুপাশে সারি সারি তালগাছ দেখা যেত। জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে টিকে থাকতে পারছে না তালগাছ। বর্তমানে ঢাক ঢোল পিটিয়ে তালগাছ রোপনের জন্য জনে জনে অনুরোধ করলেও সাধারণের মধ্যে সেই আগ্রহ আর দেখা যাচ্ছে না।
জানাগেছে, তালগাছ পাম গোত্রের অন্যতম একটি দীর্ঘ গাছ। এটি ৩০ থেকে ৪০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। একটি তালগাছ সাধারণত একশ’ বছর পর্যন্ত জীবিত থাকে।
তাল একটি গ্রীষ্মকালীন ফল । তালের বীজ ও ফল দুটোই খাওয়ার উপযোগী। কাঁচা তালের বীজ বা শাঁস খেতে খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। কাঁচা তালের শাঁস মানুষের শরীরের চাহিদা মেটায়। তালে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ও সি, পটাশিয়াম, জিংক ও ক্যালসিয়ামসহ নানা খনিজ উপাদান। তালের রস দিয়ে গুড়, মিছরি ও তাড়ি তৈরি করা হয়। পাকা তালের মিষ্টিগন্ধে মন ভরে ওঠে। পাকা তালের শাাঁসও খেতে খুব সুস্বাদু এবং তাতেও অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। গ্রাম বাংলায় পানি দিয়ে গোলানো পাকা তাল আগুনের তাপে ঘন করে তার সাথে দুধ, নারিকেল বাটা ও চিনি বা গুড় মিশিয়ে তালদুধ নামের একটি সুস্বাদু তরল খাবার তৈরি করা হয়। এ তালদুধ এখনো গ্রাম বাংলায় ভাতের সাথে খাওয়ার প্রচলন আছে। পাকা তাল দিয়ে বিভিন্ন রকমারী পিঠা তৈরি করা হয়। তালের পিঠা পছন্দ করেন না এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। গ্রীষ্মের তাপদাহে শীতল পরশ বুলায় তাল পাতার হাত পাখা। তাল গাছের পাতা দিয়ে ঘরের ছাউনী, পাখা ও মাদুরসহ বাচ্চাদের বিভিন্ন খেলনা তৈরি করা যায়। তালগাছের কাঠ দিয়ে তৈরি হয় ঘর ও নৌকা। এক কথায় তালগাছ একটি উপকারী ও প্রয়োজনীয় গাছ। বিশেষ করে তালগাছ আমাদের বজ্রপাত থেকে রক্ষা করে বলে প্রচলিত একটি কথা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তালগাছ উঁচু হওয়ায় বজ্রপাত তালগাছের ওপর পড়ে মানুষের জানমাল রক্ষা করে থাকে। এছাড়া তালগাছের শিকড় বেশি থাকায় নদী ভাঙ্গন প্রবন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তালগাছের গুণাগুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। অনেক গুণ ও প্রয়োজন থাকা সত্তে¡ও তালগাছ রোপনের আগ্রহ যেন মানুষের দিন দিন কমে যাচ্ছে। তাল গাছ রোপনের প্রতি মানুষের আগ্রহ না বাড়লে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ তালগাছ কালের গর্ভে একদিন ঠিকই হারিয়ে যাবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © crimeseen24.com-2024
Design By MrHostBD