বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
রোজা ও ঈদে টানা কত দিনের ছুটি পাচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা? জনগণের মনে শান্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীর চেয়ারে কারাগারে তারুণ্য বিলানো রাজিব বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক থেকে তথ্যমন্ত্রী, জাতিসংঘে কাজের অভিজ্ঞতাও আছে স্বপনের ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দের সাথে কলাপাড়া পৌর বিএনপির মতবিনিময় তাঁতীদলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বরিশালে দোয়া অনুষ্ঠান বিয়ে করতে এসে তেতুলিয়া নদীতে নিখোঁজ যুবক ২৩ ঘণ্টা পেরিয়েও মেলেনি হাসানের খোঁজ বাউফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত কলাপাড়ায় শাপলা কাব ও প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পরীক্ষা-২০২৬ অনুষ্ঠিত অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন বিএনপি এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রী চেয়ে জোরালো দাবি উপকূলবাসীর ভোটে জিতে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মিলাদ বিশ্ব ভালোবাসা দিবসেও পর্যটক শূন্য কুয়াকাটা বাউফলে নির্বাচন পরবর্তী সৌহার্দপূর্ণ আচারন এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পটুয়াখালী জেলার তিন এমপির তালিকায় কে কে হবেন মন্ত্রী পরিষদের সদস্য
মন্ত্রীর চেয়ারে কারাগারে তারুণ্য বিলানো রাজিব

মন্ত্রীর চেয়ারে কারাগারে তারুণ্য বিলানো রাজিব

Sharing is caring!

ক্রাইমসিন ডেক্সঃ

মাত্র ৪৭ বছরের জীবনে তারুণ্যের পুরো সময়টাই কেটেছে মামলা জেলখানা আদালতের বারান্দা আর লুকিয়ে-পালিয়ে থেকে।

বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হয়ে প্রায় ৪ বছর ছিলেন কারাগারে। রিমান্ডে নিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনের শিকার হওয়া প্রশ্নেও ভেঙেছেন রেকর্ড।

১৭ বছরে ১২৩ দিন সইতে হয়েছে পুলিশি রিমান্ডের অত্যাচার। সঙ্গে ছিল যেকোনো মুহূর্তে গুম-খুন হয়ে যাওয়ার আতঙ্ক।

আজন্ম বিএনপি করা সেই রাজিব আহসান এখন বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী। দায়িত্ব পেয়েছেন সড়ক-সেতু-রেলপথ ও নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের।

যোগাযোগ প্রশ্নে চরম অবহেলিত বরিশাল অঞ্চলে রাজিব আহসানের এ প্রাপ্তিতে খুশি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। রাজনৈতিক জীবনের প্রায় পুরোটা সময় সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকা এই নেতার কাছে তাই অনেক প্রত্যাশাও তাদের।

বরিশালের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মেহেন্দীগঞ্জে জন্ম রাজিব আহসানের। বাবা মিজানুর রহমান ছিলেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

উপজেলার পাতারহাট জুবলী ও টিটিসি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শেষ করেন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া। এরপর জুবলী ইনস্টিটিউিশনে মাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হন পাতারহাট আরসি কলেজে। এই আরসি কলেজ থেকেই শুরু রাজনৈতিক জীবন।

ছাত্রদলের কলেজ কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন তিনি। এখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে স্নাতকের লেখাপড়া শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করার পাশাপাশি ছিলেন ক্যাম্পাসের তুখোড় ছাত্রনেতা।

প্রথমে কবি জসীম উদদীন হলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পরে সভাপতি। ছাত্রদলের হেলাল-বাবু কমিটিতে সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের মধ্যদিয়ে আসেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে। এরপর পালন করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রচার ও সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব।

২০১৫ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি করা হয় তাকে। সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর পান স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব। বর্তমানে এ দায়িত্বেই আছেন তিনি।

দেশের যে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা আওয়ামী শাসনামলে সবচেয়ে বেশি অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন- তার মধ্যে অন্যতম রাজিব।

১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট আমলে ১৩০টির বেশি মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রায় প্রতিদিনই বাসায় চলতো পুলিশের হানা। ২ বোন আর মাকে নিয়ে থাকা রাজিবের ছোট্ট পরিবারকে নিয়মিত হেনস্তা করত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

একমাত্র ছোট ভাইয়ের জন্য যেমন সারাক্ষণই আতঙ্কে থাকত দুই বোন তেমনি ছেলের যেন কিছু না হয় সেই মোনাজাতে জায়নামাজে কাটত বৃদ্ধা মায়ের দিনরাত। বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হয়ে প্রায় ৪ বছর জেলে থেকেছেন রাজিব। জেলে থাকার এ সময়ে চলত রিমান্ডে নিয়ে অত্যাচার।

তার স্কুলজীবনের বন্ধু বরিশাল (উত্তর) জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন পিপলু বলেন, সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে এখনো গা শিউরে ওঠে। গ্রেফতার এড়িয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করতে কোথায় না লুকিয়েছেন রাজিব আহসান। এলাকায় আসতে পারতেন না। এলেও থাকতে হতো পালিয়ে। কত রাত কেটেছে নদীর মধ্যে ভাসমান জেলে নৌকায়। একবার পটুয়াখালীতে রাজিব আর আমিসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আমাদের থেকে আলাদা করে গোপন কোনো জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয় রাজিবকে। পরিকল্পনা চলছিল তাকে খুন করে লাশ গুম করার। নিজের কানে শুনেছি সেই পরিকল্পনার আলোচনা। প্রায় ৫ ঘণ্টা নিখোঁজ করে রাখা হয় তাকে। বিষয়টি জানতে পেরে গ্রেফতারের খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন সাংবাদিকরা। জানাজানি হয়ে যাওয়ায় পরে গ্রেফতারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।

পরীক্ষিত এই নেতাকে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।

৫৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে এমপি হন তিনি। তারপর তাকে ঠাঁই দেওয়া হয় মন্ত্রিসভায়। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সড়ক সেতু রেলপথ আর নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী পদে রাজিবের এ নিয়োগে দারুণ খুশি তার নির্বাচনি এলাকা তথা বরিশালের মানুষ। বরিশাল নাগরিক পরিষদের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, সড়ক আর নৌ-যোগাযোগ প্রশ্নে সব সরকারের আমলেই অবহেলিত বরিশাল বিভাগ।

এর আগে এই জেলায় আর কখনো সড়ক সেতু কিংবা নৌমন্ত্রী করা হয়নি কোনো এমপিকে। নতুন এই প্রতিমন্ত্রীর কাছে তাই অনেক প্রত্যাশা। বিশেষ করে ঢাকা-কুয়াকাটা এক্সপ্রেস সড়ক, কুয়াকাটা পর্যন্ত রেললাইন, ভোলা-বরিশাল সেতু, ঢাকা-কুয়াকাটা রেললাইন এখন সবচেয়ে জরুরি।

এসব বিষয়ে তিনি নজর দেবেন সেটাই প্রত্যাশা।

মন্ত্রিত্ব পাওয়া নিয়ে আলাপকালে রাজিব আহসান বলেন, প্রথমেই কৃতজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি।

তিনি আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার যোগ্য মনে করেছেন। কতদূর কী পারব জানি না, তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে মানুষের ইচ্ছা পূরণের।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © crimeseen24.com-2024
Design By MrHostBD