শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
যে কবরস্থান মানুষের শেষ ঠিকানা, সেই ওয়াকফকৃত পটুয়াখালীর বাউফলে গণকবরস্থানে সন্ত্রাসী হামলা করেছে স্থানীয় কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী।
ওয়াকফেকৃত ওই কবরস্থানের মোতওয়াল্লীর নিকট এক লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করে পুলিশ, ঘুষের টাকা না পেয়ে আসামিদের পক্ষে কাজ করছে পুলিশ।
এমন অভিযোগ বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ আতিকুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,বাউফল উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের শান্তির ঠিকানা গণকবরস্থানে চাঁদার দাবীতে বার বার হামলা করায় থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও মামলা নিচ্ছে না পুলিশ।
গনকবরস্থানের মোতওয়াল্লী অভিযোগ করে বলেন, কবরস্থানের পক্ষে দ্রুত বিচার আইনে পূর্বে দায়েরকৃত চাঁদাবাজি মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি আতিকুল ইসলাম মামলার বাদীর নিকট ১ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করেন।
ওই মামলার দীর্ঘ ছয় মাস বিলম্বে দায়সারা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করায় ইতিমধ্যে আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আদালত, পটুয়াখালী ওসি আতিকুল ইসলামের উপর দায়িত্বে অবহেলা পেশাগত অদক্ষ গন্য করে আইনানুগ ব্যবস্থা কেন গ্রহন করা হবে না- এ মর্মে কারন দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আদালত, পটুয়াখালী এ চলমান দ্রুত বিচার মামলা নং ১৫২/২০২৫ এর চার্জশীট, ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারায় পুলিশের রেকর্ডকৃত জবানবন্দি ও বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অনুযায়ী গণকবরস্থানে চাঁদা দাবীতে ভাংচুর করে মালামাল লুটের ঘটনায় কবরস্থান কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত ২৪ ঘন্টার মধ্যে মামলা রুজু করার জন্য অফিসার ইনচার্জ, বাউফল থানা, পটুয়াখালী-কে নির্দেশ প্রদান করলে দ্রুত বিচার আইনের ৪/৫ ধারায় মামলাটি রুজু হয়।
আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন ২০০২ এর ১০(২) ও (৩) ধারা মোতাবেক ০৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যাহা তদন্তকারী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম ১৮৭ দিন বিলম্বে চার্জশীট দাখিল করেন।
পুলিশ কর্মকর্তা আতিকুল অদৃশ্য কারনে উক্ত সময়ের মধ্যে কেবলমাত্র ২ জন স্বাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন মর্মে চার্জশীটে জব্দতালিকা, জিম্মানামা ও জবানবন্দিতে দেখা যায়, তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করার কথা থাকলেও আইন মোতাবেক আদেশ প্রতিপালনে উদাসীন তদন্তকারী কর্মকর্তা উক্ত সময়ের মধ্যে সব স্বাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন নাই।
তদন্তকারী কর্মকর্তা দ্রুত বিচার আইনের ১০(২) ধারা অনুযায়ী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার কথা থাকলেও কোন প্রতিবেদন দাখিল না করে ১৮৭ দিন পরে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।
আইনে নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন না করার কারন জানিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা অত্র আদালতে তদন্তের সময় বর্ধিত করার জন্য ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭৩(খ) ধারা অনুযায়ী কোন আবেদন দাখিল করেন নাই।
আদালত ইতিমধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম (বি পি ৮৩১১১৩৬১৬১) আদালতে তদন্তের সময় বর্ধিত করার জন্য আবেদন দাখিল না করা-কেন পেশাগত অসদাচারন হিসাবে গন্য করা হবে না, কেন তার বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে পেশাগত অসদাচারন হিসাবে লিপিবদ্ধ করা হবে না, কেন সংশ্লিষ্ট চাকুরীর বিধানাবলী অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না মর্মে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন।
মামলার অভিযোগকারী মোঃ মুশফিকুর রহমান অভিযোগ করে আরও বলেন, ১ লক্ষ টাকা ঘুষের অপেক্ষায় দীর্ঘ দিন অপেক্ষা করে ঘুষ না পেয়ে পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ৭ দিনের মধ্যে বাদী মানিত কোন স্বাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড না করে চাঁদাবাজির ধারা বাদ দিয়ে চার্জশিট দিয়েছেন।
উক্ত মামলার তদন্ত চলাকালে কোন আসামীকে গ্রেফতার করেন নাই। কোন আসামী বিজ্ঞ আদালত হতে জামিনও নেন নাই। উল্টো গণকবরস্থানের চাঁদাবাজি মামলার ৮ নং আসামী জব্বার মৃধা আদালত থেকে জামিন না নিয়ে ওসি (তদন্ত) আতিকুল ইসলামের প্রভাবে চাঁদাবাজি মামলার স্বাক্ষী ও গণকবরস্থানের পরিচলনা কমিটির লোকজনের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে (জি আর ২৭৫/২৫) হয়রানি করছেন।
গণকবরস্থানে চাঁদাবাজির ঘটনায় পুর্বে দায়েরকৃত মামলার কয়েজন আসামীরা বিগত ০২/০১/২০২৬ তারিখে শুক্রবার ওয়াকফকৃত উক্ত গণকবরস্থানে বাউন্ডারি ওয়াল করার সময়ে পুনরায় হামলা করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ওসি আতিকুল ইসলামের প্রভাবে এখনো মামলা নিচ্ছে না পুলিশ। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, গণকবরস্থানের জমি পটুয়াখালী সাব-জজ আদালতের অর্থ জারী মোকদ্দমা নং ০৮/২০০৬ এর ১৫/০৮/২০০৬ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত প্রকাশ্য নিলামে ক্রয় করে নিলাম ক্রেতাগণ বিজ্ঞ আদালত সহযোগে ভোগদখল গ্রহণ করে বিগত ১২/০৯/২০১৯ ইং তারিখের ৬৭৩৫ নং ওয়াকফ-এ-লিল্লাহ দলিলমুলে শান্তির ঠিকানা গনকবরস্থান এর নামে দানমুলে হস্তান্তর করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পুর্বে আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট পরিবারের সদস্য হলেও ফ্যাসিষ্ট আাওয়ামী শাসনের অবসানের পরে ১ নং আসামী শিপন ও ২ নং আসামী নাহিদ ভোল পাল্টিয়ে নিজেদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক দাবী করে বাউফল উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে এবং এলাকায় চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় গণকবরস্থানের উত্তর পাশের সীমানা প্রাচীরের কাজ করার সময়ে প্রথমে গণকবরস্থানে হামলা করে।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি পুনরায় হামলা করে। প্রথমাবারের ঘটনায় পুলিশ বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে মামলা নিলেও দ্বিতীয়বারের ভাংচুরের ঘটনায় মামলা নিচ্ছে না পুলিশ। কবরস্থানের মোতওয়াল্লীদের আমমোক্তার মোঃ মুশফিকুর রহমানের অভিযোগ অনুযায়ী বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ আতিকুল ইসলাম এর অবৈধ প্রভাবে গণকবরস্থানের বিপক্ষে কাজ করছে পুলিশ।
এছাড়াও ফ্যাসিষ্ট হাসিনার আমল থেকে দীর্ঘ দুই বছরের অধিকাল যাবত ওসি আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবীসহ স্বেচ্ছাচারীতারও অভিযোগ রয়েছে।
তিনি ফn>্যাসিষ্ট হাসিনার শাসনামলের আতিকুল এর ক্ষমতার অপব্যবহার হতে গণকবরস্থানকে রক্ষার জন>্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি (তদন্ত) মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেন,আদালত কারন দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন সে ব্যাপারে আদালত দেখবে বাহিরে বলার কিছু নেই।
আর আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
মো.আরিফুল ইসলাম বাউফল (পটুয়খালী) প্রতিনিধি