ক্রাইমসিন ডেক্সঃ
বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় আপন ছোট ভাইকে জোরপূর্বক আটকে রেখে অপহরণের চেষ্টা, মারধর ও ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সৎ চাচার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক নারী। একই মামলায় বাদীকে মারধর ও পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলারও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার বাদী মোছা. ফারজানা আক্তার রিয়া (৩০) বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ সোনালী আইসক্রিম মোড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি মো. জসিম উদ্দিন ও আরও কয়েকজনকে সাক্ষী করেছেন।
মামলাটি বরিশাল বিজ্ঞ অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে দায়ের করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি মো. জসিম উদ্দিন সন্যামত বাদীর সৎ চাচা। পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি বাদী ও তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরূপ আচরণ করে আসছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রায় চার বছর আগে বাদী গর্ভবতী থাকা অবস্থায় তাকে মারধরের কারণে গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় মামলা করতে চাইলে আত্মীয়স্বজনের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা হয় বলে দাবি বাদীর।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় বাদীর ছোট ভাই ঢাকা থেকে তাদের বাড়িতে আসেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাদী খবর পান, তার ভাইকে বাড়ির পেছনে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছে এবং তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ির সামনে একটি মাইক্রোবাস রাখা হয়েছে।
পরে বিষয়টি বাদীর স্বামীকে জানানো হলে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাদীর ভাইকে উদ্ধার করে।
মামলার এজাহারে বাদী দাবি করেন, তার ভাই আসামির সঙ্গে যেতে রাজি না হওয়ায় তাকে গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা এবং লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর আরও অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর আসামি তাকে মারধর করেন এবং পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলেন। তার ডাক-চিৎকারে স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি দেখতে পান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী জানান, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হওয়ায় আদালতে মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
মামলায় অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বাদী। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।