পটুয়াখালী জেল প্রতিনিধি:
আদালতে বিচারাধীন ও নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা জমি সংক্রান্ত বিবাদ মিটাতে দলীয় কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া এবং একতরফা বিচারের হুমকি প্রদানের অভিযোগে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মতিউর রহমান হাওলাদারের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধে তাকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ জারি করা হয়েছে। গত ৩ অক্টোবর ২০২৬ (স্মারক নং: ZillaBNP/PTK/26-68) পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ মজিবুর রহমান টোটন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করা হয়।
পটুয়াখালী জেলা বিএনপি সূত্রে জানা যায়, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মতিউর রহমান হাওলাদার আদালতে বিচারাধীন এবং স্থগিতাদেশ (নিষেধাজ্ঞা) বহাল থাকা একটি জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিচারালয় হিসেবে দলীয় কার্যালয়কে ব্যবহার করার চেষ্টা করেন।
তিনি বিবাদমান পক্ষকে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করেন এবং হুঁশিয়ারি দেন যে, উপস্থিত না হলে একতরফাভাবে বিচার কার্য সম্পন্ন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উক্ত নোটিশের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয় এবং বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।
জেলা নেতৃত্বের অবস্থান ও নির্দেশ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর পটুয়াখালী জেলা বিএনপি জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। জেলা বিএনপি প্রেরিত পত্রে উল্লেখ করা হয়, আদালতে বিচারাধীন একটি দেওয়ানি বিষয়ে রাজনৈতিক কার্যালয় ব্যবহার করে এমন সালিশি উদ্যোগ দলীয় শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক শিষ্টাচার ও বিএনপির রাজনৈতিক নীতি-আদর্শের চরম পরিপন্থী।
পত্রে মতিউর রহমান হাওলাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিকট লিখিত কৈফিয়ত প্রদান করতে হবে—কেন তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এই মর্মে।
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের স্বার্থে উক্ত নোটিশের অনুলিপি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু এবং কলাপাড়া উপজেলা/পৌর বিএনপির সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দলীয় নীতিনির্ধারকদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে ইতিমধ্যে।
এ বিষয়ে মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, “দলীয় নির্দেশনা রয়েছে, কোনো ধরনের সালিশি বাণিজ্য করা যাবে না। তবে দীর্ঘদিন কুয়াকাটা পৌরসভায় জনপ্রতিনিধি না থাকায় বিভিন্ন ভুক্তভোগী পরিবার সহযোগিতার জন্য আমাদের কাছে আসে। সে কারণে আমরা দুই পক্ষকে বসিয়ে বিষয়গুলো মীমাংসার চেষ্টা করি।
কিন্তু একটি পক্ষ আদালতে মামলা করেছে এবং বিষয়টি আমাদের কাছে গোপন রেখেছে। ফলে আদালতে মামলা ও নিষেধাজ্ঞারি বিষয়টি আমরা জানতাম না।” তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী তিনি জবাব দেবেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত জবাব দিতে ব্যর্থ হলে অথবা আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তিসংগত কারণ দর্শাতে না পারলে তার বিরুদ্ধে দল থেকে বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির এই কঠোর অবস্থানকে সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং এর মাধ্যমে দলে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকবে বলে মনে করছেন সচেতন রাজনৈতিক মহল।