রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ন
কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
দক্ষিনাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল কলাপাড়া, কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্র, মহিপুর মৎস্যবন্দর, পায়রাবন্দর, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী–৪ (কলাপাড়া–রাঙ্গাবালী) আসনের গণমানুষের নেতা হিসেবে পরিচিত আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চাওয়ার জোরালো দাবি উঠেছে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের।
উপকূলীয় এ জনপদের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে শক্তিশালী প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজনীয়তার কথাই বেশি উঠে আসছে গণমানুষের বক্তব্যে।” আর কোন দাবি নাই, এবিএম মোশাররফকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই” এমন দাবি করে স্লোগান দিতে দেখা গেছে অনেককে।
এর পক্ষে মত দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিত্ব সম্পূর্ণভাবে দলীয় উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়।
স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ, মন্ত্রণালয় বণ্টন ও কৌশলগত বিবেচনাও বড় ভূমিকা রাখে।
পায়রা বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সুমন গাজী বলেন, পায়রা বন্দরকে ঘিরে শিল্প–বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত তৈরি হচ্ছে।
কিন্তু অবকাঠামো উন্নয়ন ও নীতিগত সহায়তা জোরদার করতে প্রভাবশালী নেতৃত্ব প্রয়োজন।উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এই আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে টেকসই অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ জীবিকার দাবি জানিয়ে আসছেন।
সেই প্রেক্ষাপটে এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চাওয়ার বিষয়টি এখন পটুয়াখালী–৪ জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, কুয়াকাটা আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
সড়ক যোগাযোগ, হোটেল–মোটেল জোন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। মন্ত্রিপর্যায়ে নজরদারি থাকলে উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
মহিপুর’র মৎস্য ব্যবসায়ী ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী বলেন, “ইলিশ সংরক্ষণ মৌসুমে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা দরকার। গভীর সমুদ্রে নিরাপত্তা বাড়ানোও জরুরি।এর আগেও এখানে মন্ত্রী ছিল,তাই উন্নয়ন করতে হলে মন্ত্রীর বিকল্প নেই।
উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও বেকারত্ব বড় সমস্যা। উন্নয়নের স্বার্থে যোগ্য নেতৃত্বকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হলে কলাপাড়া উপজেলার উন্নয়নের স্বপ্ন পূর্ণতা পাবে।
১১ দলীয় জোটের ঘড়ি প্রতিকের প্রার্থী জহির আহমেদও একই মত পোষণ করে বলেন, “রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও এলাকার সার্বিক উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ।
তিনি মন্ত্রী হলে উপকূলীয় উন্নয়নের গতি বাড়বে বলে আমরা বিশ্বাস করি। কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদার বলেন, পটুয়াখালী–৪ একটি সম্ভাবনাময় উপকূলীয় অঞ্চল।
এখানে পায়রা বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে,শেরে-বাংলা নৌ ঘাটি, কুয়াকাটা সাবমেরিন কেবল স্টেশন, কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র এবং মৎস্য বন্দর সব মিলিয়ে ব্যাপক উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।
কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সরাসরি প্রতিনিধিত্ব থাকলে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।
মোয়াজ্জেম হোসেন
কলাপাড়া