শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন
ক্রাইমসিন ডেক্সঃ
মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর পটুয়াখালী–৩ আসনের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় দৃশ্যের জন্ম হলো।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরিতা ভুলে বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুন প্রকাশ্যে কোলাকুলি করেন।
তারা বসেছিলেনও পাশাপাশি।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ দৃশ্য উপস্থিত সবার দৃষ্টি কেড়ে নেয়।
বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পটুয়াখালী–৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে নুরুল হক নুর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরী।
যাচাই-বাছাইয়ে তাদের মনোনয়নপত্রে কোনো ধরনের ত্রুটি না থাকায় বৈধতা দেওয়া হয়। ঘোষণার পরপরই দুই প্রার্থী একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে পটুয়াখালী–৩ আসনে নুরুল হক নুর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনসহ মোট পাঁচটি মনোনয়নপত্র বৈধ পাওয়া গেছে। বাকি দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নুরুল হক নুর বলেন, নির্বাচনি কার্যক্রম মাত্র শুরু হয়েছে। এ আসনের জনগণ আমার সঙ্গে রয়েছেন। আমি নির্বাচিত হলে গলাচিপা ও দশমিনাকে সারা দেশের জন্য একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলব।
অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেন, গলাচিপা ও দশমিনার মানুষের জন্য আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি।
এলাকার সাধারণ মানুষের ইচ্ছা ও সমর্থন থেকেই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী–৩ আসনটি ঘিরে আগে থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছিল।
মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার মধ্য দিয়ে এবং দুই চিরবৈরী নেতার প্রকাশ্য সৌহার্দপূর্ণ আচরণে এ আসনের নির্বাচনি লড়াই যে আরও উত্তপ্ত ও কৌতূহলোদ্দীপক হয়ে উঠবে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভোটাররা।