মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
বাউফলে ১৫০টাকার দ্ব‌ন্দে অনার্স পরিক্ষার কেন্দ্র বা‌তিল বরিশাল জেলা মটরযান মেকানিক শ্রমিক ইউনিয়নের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীর খলিসাখালীতে শিক্ষক বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করলেন ছাত্রদল সিসি ক্যামেরায় নকলমুক্ত সুষ্ঠু পরিবেশে কলাপাড়ায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু বরিশাল টেলিভিশন চিত্র সাংবাদিকদের নতুন কমিটি ঘোষণা কলাপাড়ায় কেন্দ্র সচিব এবং কক্ষ প্রত্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা বরিশাল মহানগর শ্রমিকদলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি পেশ স্কুলছাত্রীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় কিশোরের ওপর দফায় দফায় হামলা, থানায় অভিযোগ কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত আবারো মৃত ডলফিন পটুয়াখালীতে ইফতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের মানববন্ধন ও  স্মারকলিপি প্রদান জনগণ চাইলে নির্বাচনে অংশ নেব — সাংবাদিক হাফিজুল ইসলাম শান্ত উজিরপুরে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পিং-এর শুভ উদ্বোধন বরিশালে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে কুইজ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা
সমুদ্রে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়লেও দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে

সমুদ্রে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়লেও দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে

Sharing is caring!

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা , প্রকৃতির বৈরীতার পর অবশেষে ইলিশ বোঝাই ট্রলার নিয়ে ঘাটে ফিরছে গভীর সমুদ্রের জেলেরা। দীর্ঘদিন পরে ইলিশের দেখা পেয়ে খুশি জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। তবে গভীর সমুদ্রের জেলেরা কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা পেলেও উপকূলবর্তী জেলেরা হতাশ। ছোট ট্রলার, ফাইবার বোট, ইঞ্জিন বোট নিয়ে সমুদ্রে মাছ শিকারে নামা জেলেদের জালে
মিলছেনা ইলিশ। ইলিশের দেখা মিলছে শুধু গভীর সমুদ্রে। তাও আবার দাম
মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে।

বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) কুয়াকাটা উপকূলের আলীপুর-মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের বিভিন্ন আড়ৎগুলোতে স্থানীয় ছাড়াও চট্টগ্রাম, ভোলা, বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার এলাকার গভীর সমুদ্র গামী অনেক ট্রলার ইলিশ মাছ বিক্রি করতে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এসেছে। ইলিশ বোঝাই ট্রলার গুলো নোঙ্গর করায় সরগরম হয়ে উঠেছে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। বিভিন্ন সাইজের ইলিশের
ক্রয়-বিক্রয় এবং পরিবহন শ্রমিকদের হাক ডাকে কর্মমূখর চাঞ্চল্য ফিরেছে
বন্দরে।
৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে সমুদ্রে যেতে পারেনি জেলেরা। এবার ইলিশের দেখা পেয়ে সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছে জেলেরা। তবে অতিরিক্ত দামে খুচরা বিক্রেতারা লোকসানের কবলে পড়ছে। ইলিশের দাম শুনে ক্রয়ের আগ্রহ নেই মধ্যবিত্তের।

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকার জেলে জয়নাল মাঝি (৫০)’র জালে ধরা পড়েছে বড় সাইজের দুটি ইলিশ। এর মধ্যে একটির ওজন হয়েছে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ও অপরটির
ওজন হয়েছে ১ কেজি ৯০০ গ্রাম। বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটায় মহিপুরের আকন ফিস মৎস্য আড়তে অন্যান্য মাছের সঙ্গে এ ইলিশ দুইটি নিয়ে আসা হয়। পরে অন্য ইলিশের সঙ্গে ৬৫ হাজার টাকা মন হিসেবে মাছ দুইটি নিলামে বিক্রি করা হয়। এ
মৌসুমে জেলেদের জালে ধরা পড়া এ ইলিশ দুইটির ওজন সবচেয়ে বেশি। জেলে জয়নাল মাঝি জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাসনিয়া তিহা নামের এক ট্রলার নিয়ে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থেকে ১৭ জেলে সহ গভীর সাগরে মাছ ধরার জন্য যান তিনি। পরে গতকাল রাঙ্গাবালি উপজেলার মৌডুবী ছয়বাম সংলগ্ন সাগরে জাল ফেলার পর অন্যান্য ইলিশের সঙ্গে এ মাছ দুইটি ধরা পড়ে।
এর আগে নোয়াখালী এলাকার এফবি ভাই ভাই ট্রলারের মালিক মিজান মাঝির জালে ধরা পড়ে ৯৬ মণ ইলিশ। পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়ার সীমানায় জাল ফেলে গত রোববার বিকেলে তিনি এই মাছ পান।সোমবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে মাছ নিয়ে তিনি
মহিপুর মৎস্য বন্দরে ফিরে আসেন। বিকালে ওই মৎস্য বন্দরের ফয়সাল ফিস নামের একটি আড়তে ৩৯ লাখ ৭০ হাজার টাকায় এই ইলিশ বিক্রি করেন। মিজান বলেন,‘মাছ পাইমু আই চিন্তাও হরি নাই। ধার-দেনায় আই জর্জরিত হইয়া গেছি। মাছ বিক্রি করি যে-ই টেহা হাইছি, হেগুন দি আই দেনা শোধ করি দিমু।’
সমুদ্র থেকে ফিরে আসা ফিরে আসা এফবি মরিয়ম ট্রলারের মাঝি আব্দুল মান্নান বলেন,‘৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর পরই আবহাওয়া খারাপ হইয়া যায়। এতে অনেক জেলে সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারে নাই। আবহাওয়া ভালো হওয়ার পর জেলেরা সমুদ্রে মাছ ধরা শুরু করেছে। কেউ ১০ মণ, কেউ ১২ মণ ইলিশ পাচ্ছে। মিজানের জালে ৯৬ মণ ইলিশ ধরা পড়লো। সামনে মাছ আরও বেশি পড়বে বলে মনে হচ্ছে।’

আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছ বিক্রি করতে আসা এফবি মারুফ ট্রলারের মাঝি বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘গত দশদিন আগে সাগরে মাছ ধরতে গেছিলাম প্রথম চার দিন জাল টেনে কোন মাছ পাইনি। পরে অল্প অল্প মাছ পেতে থাকি। গতকালকে পর্যন্ত মোটামুটি ভালো মাছ পেয়েছি যা গত এক বছরেও পাইনি। আজকে মাছ নিয়ে আলিপুর মৎস্য বন্দরে বিক্রি করতে এসেছি, মাছ বিক্রী করে ১০ লক্ষ টাকার উপরে পাইছি।’

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, গভীর সমুদ্রের জেলেরা ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ নিয়ে আসছে এবং ভালো দামও পাচ্ছে। আজকের জাটকা ২১ হাজার টাকা, ৬০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ ২৮ হাজার, ৮০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ ৩৬ হাজার এবং ১কেজির উপরের
ইলিশ ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা মন বিক্রি হচ্ছে। তবে এই দামে জেলেরা খুশী থাকলেও প্রায়ই লোকসান গুনছেন পাইকারি ক্রেতারা ।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘গত কয়েক দিন যাবৎ গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারকারী ট্রলারগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ নিয়ে ফিরছে। তবে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপকূলবর্তী জেলেরা। এর প্রধান কারণ হলো আন্ধারমানিক ও রামনাবাদ চ্যানেল সংলগ্ন বেশ কয়েকটি ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে যে কারণে ইলিশ তার গতিপথ পরিবর্তন করেছে। উপকূলের জেলেদের জন্য পরামর্শ থাকবে তারা যেন গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারের
সরঞ্জামাদি তৈরি করে।’

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘জেলেদের জালে এখন প্রতিদিনই প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। সামনের দিনগুলোতে আরও ইলিশ ধরা পরবে বলে আশা রাখি। এটা ৬৫ দিনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞার সুফল।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © crimeseen24.com-2024
Design By MrHostBD