বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
পটুয়াখালীর খলিসাখালীতে শিক্ষক বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করলেন ছাত্রদল সিসি ক্যামেরায় নকলমুক্ত সুষ্ঠু পরিবেশে কলাপাড়ায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু বরিশাল টেলিভিশন চিত্র সাংবাদিকদের নতুন কমিটি ঘোষণা কলাপাড়ায় কেন্দ্র সচিব এবং কক্ষ প্রত্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা বরিশাল মহানগর শ্রমিকদলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি পেশ স্কুলছাত্রীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় কিশোরের ওপর দফায় দফায় হামলা, থানায় অভিযোগ কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত আবারো মৃত ডলফিন পটুয়াখালীতে ইফতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের মানববন্ধন ও  স্মারকলিপি প্রদান জনগণ চাইলে নির্বাচনে অংশ নেব — সাংবাদিক হাফিজুল ইসলাম শান্ত উজিরপুরে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পিং-এর শুভ উদ্বোধন বরিশালে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে কুইজ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো ৮ ফুট লম্বা মৃত ইরাবতী ডলফিন বরিশাল কালেক্টরেট স্কুলের এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা
ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বাল্য বিবাহ বন্ধ, দু’পক্ষকে জরিমানা

ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বাল্য বিবাহ বন্ধ, দু’পক্ষকে জরিমানা

Sharing is caring!

মোঃ নাসির উদ্দিন, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর গলাচিপায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে একটি বাল্য বিবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বড় গাবুয়া গ্রামে। বুধবার (১০ মে) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের সময় এ বিবাহ বন্ধ করা হয়।

কনে হচ্ছেন বড় গাবুয়া গ্রামের হারুন সরদারের মেয়ে। আর বর হচ্ছেন বরগুণা জেলার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের মুন্সীর হাট এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় বর ও কনের অভিভাবকদের মোট ৩২ (বত্রিশ) হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ দুপুরে গোলখালী ইউনিয়নের একটি বাড়িতে বিয়ের আয়োজন করা হয়। কনের বয়স ১৪ বছর। সে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরত্বে তার মাদরাসা। তার শ্রেণি রোল নম্বর ৭।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই কনের বাড়িতে রান্না বান্না চলছিল। বিয়ের আয়োজনের অংশ সামিয়ানা টাঙানো হয়। উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করছিলো বাড়িতে। বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা, গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদার, বাল্য বিবাহ নিয়ে কাজ করে সুশীলন এনজিও প্রতিনধি, পুলিশ ও আনসার নিয়ে বিয়ে বাড়িতে হাজির হন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় জাল জন্মনিবন্ধন দেখিয়ে বিয়ের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

পরে বর ও কনের পিতাকে বাল্য বিবাহের সহযোগিতা ও সম্পাদনা করার জন্য বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী মোট ৩২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ওই ছাত্রী প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেয়া হবে না, এই মর্মে বর ও কনের অভিভাবকদের নিকট হতে মুচলেকা নেয়া হয়। এ বিষয়ে গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, আমার ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বাল্য বিবাহের খবর জানতে পেরে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে অবহিত করি এবং বিয়ে বাড়িতে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেই। আমার ইউনিয়নে কোন বাল্য বিবাহ, মাদক, নারী নির্যাতন ইত্যাদি ঘৃণিত কার্যক্রম বন্ধে আমরা বদ্ধ পরিকর। কেউ এরকম অপরাধ করলে রেহাই পাবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, বাল্য বিবাহ বেআইনি। এতে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনের ইতি ঘটে। বাল্য বিবাহ হচ্ছে মাতৃমৃত্যু, নারী নির্যাতন ইত্যাদির প্রধান অনুঘটক। বাল্য বিবাহের খবর পেয়ে ওই গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। বাল্য বিবাহের শিকার শিক্ষার্থীর পড়াশোনা চালিয়ে নিতে উদ্যোগ নেয়া হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © crimeseen24.com-2024
Design By MrHostBD