বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৭ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
কলাপাড়ায় স্পেশাল স্ট্রাইকিং মিশন চালিয়ে দুই মাদক ব্যবসায়ীসহ গ্রেফতার-৩,  মৎস্যজীবী দলের নেতাকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন ফয়েজ খান অবশেষে লা/শ হয়ে ফিরলেন জেলে সরোয়ার বিএনপির নির্দেশনা মানছেন না অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ চোখের জলে বিদায় লিলেন রাখাইন ধর্মগুরু সংঘরাজ ভদন্ত উকোইন্দা মহাথেরো বাউফলে আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে ২ বোনকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ কলাপাড়ায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের হুইল চেয়ার বিতরন স্বাধীনতা দিবসে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ঈদের চতুর্থ দিনে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল সৈকতে মোটরসাইকেলের অবাধ বিচরন, ঝুঁকিতে শিশু ও পর্যটক সম্পাদক পদে সবার পছন্দ এ্যাড আবুল কালাম আজাদ ইমন কলাপাড়ায় আগাম ঈদ উদযাপন করছে  ৮ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ কলাপাড়ায় অদম্য-৯৭ ব্যাচের ইফতার অনুষ্ঠিত কুয়াকাটায় মানববন্ধনের জেরে শ্রমিক দল নেতাকে হত্যাচেষ্টা, পটুয়াখালীর কালাইয়াতে বিপুল পরিমাণ মাদক ও বার্মার সুল্কফাকি দেওয়া চোরাই সুপারি জব্দ
ঘূর্ণিঝড় আম্পান: কলাপাড়ায় পানির নিচে ১৭ গ্রাম

ঘূর্ণিঝড় আম্পান: কলাপাড়ায় পানির নিচে ১৭ গ্রাম

Sharing is caring!

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। এসময় সতর্কতামূলক প্রচারণা চালাতে গিয়ে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের ৭নং ইউনিটের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কমিটির ইউনিট টিম লিডার শাহআলম (৫৫)-এর মৃত্যু হয়। এছাড়া একই ইউনিয়নের পাঁচজুনিয়া গ্রামে গাছ চাপা পড়ে মাহবুবু (৩৫) নামে একজন আহত হয়েছে। তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৭ থেকে ৮ ফুট বেশি পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ৯ শতাধিক মাছের ঘের ও পুকুর থেকে কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। ক্ষতি হয়েছে বর্ষাকালে সবজির ক্ষেতসহ বোরো ধানের ক্ষেত। ঘূর্ণিঝড় আম্পান’র তাণ্ডবে উপজেলার ১২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে গেছে। দুই শতাধিক স্পটে গাছ পড়ে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেছে বলে জানা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁধ ভাঙা জনপদ লালুয়ার ইউনিয়নের ১৭ গ্রাম এখন পানিবন্দি হয়ে আছে। মানুষের বাড়িঘর এখন আর বসবাস করার উপযোগী নেই। আম্পানের তাণ্ডব থামলেও অমাবস্যার প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকালে রাবনাবদ নদীর জোয়ারে লোনা পানি প্রবেশ করে তলিয়ে যায় ফসলি ক্ষেত। এমনকি রান্না করার চুলা পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে। পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে রাস্তাঘাট। এখন ওই গ্রামের অনেক মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে। এছাড়া চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামের রাবনাবাদ পাড়ের প্রায় ২০০ মিটার রিং বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। বাঁধঘেষা অন্তত ২০টি পরিবারের ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। বিলীন হয়ে গেছে শত শত গাছপালা।

দেবপুরের স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ মৃধা জানান মুহূর্তের মধ্যে বাঁধটি জলোচ্ছ্বাসে বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ধসে যাওয়া শুরু হয়। এর ফলে তার প্রায় চার লাখ টাকার মাছ পুকুর ডুবে ভেসে গেছে। পুকুরটিও রাবনাবাদ গিলে খেয়েছে। পাঁচটি পুকুরের মাছ, দেবপুর গ্রামের অর্ধশত কৃষকের ডাল জাতীয় শস্য লোনা পানির প্লাবনে নষ্ট হয়ে গেছে।

বঙ্গবন্ধু কলোনি এলাকার অধিবাসী মো. আলামিন জানান, তার ঘরে একটি গাছ পড়ে ঘরটি বিধ্বস্ত হয়েছে। তিনি মাত্র দু’মাস আগে কষ্ট ক্লেশ করে ঘরটি তুলেছিলেন।

পৌর শহরের চিংগড়িয়া এলাকার অধিবাসী বিমল হাওলাদার জানান, তার পাশাপাশি দু’টি ঘরজুড়ে একটি গাছ পড়ে ঘরটি ভেঙে যায়। তিনিসহ তার পরিবারের লোকজন রাত জেগে কাটিয়েছেন। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল অন্তত ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার।

বুধবার সন্ধ্যায় জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় বেড়ি বাঁধের বাইরে অন্তত দু’শতাধিক ঘরবাড়ি পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসময় হাজার মানুষ আশেপাশের সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক মানুষ পানি বৃদ্ধির আশংকায় বহুতল ভবন কিংবা স্কুল কলেজে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষ জানান, আম্পান’র তাণ্ডবে একজন নিহত ও একজন আহতের খবর মিলেছে। এছাড়া ৩৭৮টি বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩২৪টি আংশিক এবং ৫৪টি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। এটি প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য। পূর্ণাঙ্গ তথ্য তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পান’র জন্য মোট ১৯৭টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল। তবে এলাকায় বাতাসের পাশাপাশি পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গাছপালা, ঘরবাড়িসহ হাঁস-মুরগি গবাদি পশু ও মাছের ঘের’র ক্ষতি হয়েছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © crimeseen24.com-2024
Design By MrHostBD