ক্রাইমসিন ডেক্সঃ
মা হ/ত্যাকাণ্ডের মামলায় বাবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর আসামির খালাসের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী নাজিয়া জহির।তার দাবি, তার বাবা মো. জহিরুল ইসলাম হ/ত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। বরং মামলার তদন্তে যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ উঠে এসেছে, সেগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
একই সঙ্গে তার বাবা ও খালা নায়লা আহমেদ রুমাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ‘মিথ্যা ও মানহানিকর’ অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ অনুসন্ধানেরও দাবি জানিয়েছেন নাজিয়া।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। নাজিয়া জহির মো. জহিরুল ইসলাম ও মরহুমা নাজমা জহিরের একমাত্র কন্যা। তিনি বরিশালের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা নং ১/২৪-এর বাদী।
নাজিয়া বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর মামলা নং ৬/২০১০-এর রায় ঘোষণা করেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল, বরিশালের বিচারক মো. মোস্তাক আহমেদ। ওই রায়ে তার বাবা মো. জহিরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।একই সময়ে তার দায়ের করা মামলা নং ১/২৪-এর আসামি জহিরুল হক সোহেলকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
রায়ের বিষয়ে নাজিয়ার বক্তব্য, তার বাবা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে নাজিয়া বলেন, মামলার পাঁচ সাক্ষী—হাবিব, কবীর, মনির, কামরুল ও ইকবাল—হোটেলের কর্মচারী ছিলেন।
তাদের জবানবন্দিতে জহিরুল হক সোহেলকে হত্যাকাণ্ডের দিন সকালে হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনাল থেকে দুই অপরিচিত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
নাজিয়ার দাবি, হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালে জহিরুল হক সোহেলের অবস্থানের তথ্য হোটেল রেজিস্টারেও রয়েছে। তার দায়ের করা মামলা নং ১/২৪-এর সিআইডি তদন্ত কর্মকর্তা উথান চৌয়ের তদন্ত ও চার্জশিটেও এসব তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, তার বাবা সরকারি দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় তার মা তাকে রিসেপশন পর্যন্ত এগিয়ে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন নাজিয়া। এ বিষয়ে গাড়িচালক মো. জাকির হোসেন এবং হোটেলের কর্মচারী হাবিব গাজী, কামরুল হোসেন, ইকবাল ও জাকির পাজীর সাক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া তার বাবা হত্যাকাণ্ডের পর সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন—এমন তথ্য মামলার সাক্ষ্যেও উঠে এসেছে বলে দাবি করেন নাজিয়া। এ বিষয়ে মো. আবু বকর ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
নাজিয়া প্রশ্ন তুলে বলেন, তার বাবা যদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হয়ে থাকেন, তাহলে হত্যাকাণ্ডের পর কীভাবে তিনি স্বাভাবিকভাবে সরকারি দায়িত্ব পালন করলেন।
একই সঙ্গে জহিরুল হক সোহেলের হোটেলে অবস্থান এবং হত্যাকাণ্ডের দিন সকালে দুই অপরিচিত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে হোটেল ত্যাগের বিষয়ে একাধিক সাক্ষীর বক্তব্য থাকার পরও তিনি কীভাবে খালাস পেলেন, সেই প্রশ্নের উত্তরও তিনি চান।
সংবাদ সম্মেলনে জহিরুল হক সোহেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের কথাও তুলে ধরেন নাজিয়া। তার দাবি, সোহেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগ রয়েছে।
তার নানাবাড়ির ঝালকাঠির সম্পত্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দখলে রাখার অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জহিরুল হক সোহেলের ব্যক্তিগত ও বৈবাহিক জীবন নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে নাজিয়া বলেন, তার একাধিক বিয়ের তথ্য তারা জানেন। এসব বিষয়ও যথাযথভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
নাজিয়ার অভিযোগ, তার বাবা মো. জহিরুল ইসলাম ও খালা নায়লা আহমেদ রুমাকে জড়িয়ে পরকীয়ার ‘মিথ্যা ও মানহানিকর’ অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে। তার দাবি, নায়লা আহমেদ রুমা তার বাবাকে নিজের বাবার মতোই শ্রদ্ধা করেন।
তাদের সম্পর্ক নিয়ে অপপ্রচারের মাধ্যমে মায়ের হত্যাকাণ্ডের মূল ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নাজিয়া বলেন, তার মা মারা যাওয়ার পর গত ১৬ বছরে তার বাবা আর বিয়ে করেননি। তার ভাষ্য, এটিও তার বাবার পারিবারিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মামলার সাক্ষ্য, হোটেলের রেজিস্টার, তদন্ত কর্মকর্তার চার্জশিটসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার আহ্বান জানান নাজিয়া।
তিনি বলেন, “আমি আমার বাবার জন্য ন্যায়বিচার চাই। একই সঙ্গে আমার মায়ের প্রকৃত হত্যাকারীর বিচার চাই।
কোনো নির্দোষ মানুষ যেন শাস্তি না পান এবং কোনো অপরাধী যেন আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারেন—এটাই আমার দাবি।”