সর্বশেষ:
পটুয়াখালীতে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ চেষ্টার মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন বাউফলে দুর্গাপূজার ৬৫পূজামণ্ডপে , নিরাপত্তায় থাকছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নাগরিক সেবায় অবহেলা, বরিশালে দুই কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জুলাই যোদ্ধা শহীদ বাচ্চু হাওলাদার এর স্ত্রীর মৃ/ত্যু শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে শ্রমিক দলের নেতৃবৃন্দ শহীদ ওসমান হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে, পটুয়াখালীতে “মার্চ ফর হাদী” কর্মসূচি ইলিশের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে মা ইলিশ সংরক্ষণ জরুরি: মৎস্যসচিব ইলিশের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে মা ইলিশ সংরক্ষণ জিয়া মঞ্চ বরিশাল বিভাগীয় প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এবং কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ স্থগিত মির্জাগঞ্জে আন্দুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নব-নির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা ও ব্যাগ বিতরন

পূর্বে বঙ্গবন্ধুর ছবি এবার মন্ত্রী এ্যানির ছবি ব্যবহার করে কুয়াকাটায় জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

Reporter Name / ৩০ Time View
Update : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কলাপাড়া (পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির ছবি ব্যবহার করে জমি দখল, একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোসাররফ হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

তিনি নিজেকে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আকন। এসব অভিযোগের প্রতিকার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন জাহাঙ্গীর আকন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে তার অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের নিরাপত্তা ও জমি উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। জাহাঙ্গীর আকন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুয়াকাটা এলাকায় সুনামের সঙ্গে জমিজমা ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করে আসছেন।

তার দাবি, সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে সৈয়দ মোসারেফ, জি.এম. ফারুক, মো. ইউনুছ মিয়া ও মোসাম্মাৎ জাহানারা ইসলাম ০.৭৭ একর জমির মালিক হন। ১৯৯৭ সাল থেকে জমিটির মালিকানা থাকলেও পরবর্তী সময়ে আনোয়ার নামের এক পাহারাদারের মাধ্যমে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে মোসাররফ হোসেন জমিটি দখলে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জাহাঙ্গীরের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মোসাররফ তার রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে বিএনপির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। বর্তমানে ওই জমির সামনে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির ছবি সংবলিত ব্যানার ও সাইনবোর্ড ব্যবহার করে দখল বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে দাবি করে জাহাঙ্গীর বলেন, মোসাররফ হোসেনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ৩৫৭/২৪, ৩৫৮/২৪, ৪৭৯/২৪ ও ১৪৯/২৪ নম্বরসহ একাধিক মামলা করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকাতেও দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর আরও অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিবাদীপক্ষ জমিটি অবৈধভাবে ভোগদখলে রাখে। জমির মালিকরা তাদের জমির দখলে যেতে চাইলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, গত ২ সেপ্টেম্বর একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে গেলে আদালত চত্বরে মোসাররফ হোসেন তার লোকজন নিয়ে তাকে আটক করেন এবং ৩০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে তিনজন আইনজীবী ও কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে বিষয়টির সমাধান হয় বলে জানান তিনি।

জাহাঙ্গীর আকন আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোসাররফ হোসেন জমিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির পাশে নিজের ছবি ব্যবহার করে সাইনবোর্ড স্থাপন করেছিলেন।

বর্তমানে একই কৌশলে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির ছবির সঙ্গে নিজের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার স্থাপন করে জমির দখল বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। এ-সংক্রান্ত কিছু ছবি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।

এদিকে, জাহাঙ্গীরের দাবি, সান ভিউ প্রপার্টিজ লিমিটেডের পক্ষে মোসাররফ হোসেনসহ ছয়জন ওই জমির মালিক ছিলেন। পরবর্তীতে মোসাররফ হোসেন জমিটির মূল্য ১ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে বিক্রি করেন।

তবে বিক্রয়লব্ধ অর্থের মধ্যে অপর পাঁচ মালিকের অংশ তাদের বুঝিয়ে না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে সান ভিউ প্রপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল হক অবগত নন বলেও দাবি করেন জাহাঙ্গীর। অন্যদিকে, বিএস ৭৭৭ নম্বর খতিয়ানের রাখাইন মার্কেটের পূর্ব পাশে অবস্থিত একটি জমির ক্ষেত্রেও শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে নিজের ছবি সংবলিত সাইনবোর্ড ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁসের মামলায় আলোচিত আবেদ আলীর কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোসাররফ হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে(01711-14149)এই নম্বরে  একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মোয়াজ্জেম হোসেন কলাপাড়া


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category