মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
খণ্ড খণ্ড মিছিলের মধ্য দিয়ে বরিশাল-১ আসনে নির্বাচনী প্রচার–প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জ হির উদ্দিন স্বপন ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগে কলাপাড়া ৯৯ ব্যাচ গন অধিকার পরিষদ, ইসলামি শাসন তন্ত্র ও জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে অভ্যন্তরীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত ‎ বিগত ১৭ বছর ধরে যেখানে কোন উন্নয়ন হয়নি, সেখানে উন্নয়ন করতে চাই: জহির উদ্দিন স্বপন বাউফলে বিএনপি জামায়াতের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত প্রায় অর্ধশত ধানের শীষের প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে গণঅধিকার পরিষদ প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন পায়রা বন্দরের ফোরলেন সেতুর সাটার ভেঙ্গে নদীতে পড়ে নি/হ/ত এক, আহত ১০ জলাবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব ঠেকাতে খাল খননসহ ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করা হবে……..এবিএম মোশাররফ হোসেন ধর্ম আলাদা হলেও লক্ষ্য সবারই এক, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে… এবিএম মোশাররফ হোসেন নির্বাচন সুষ্ঠু করতে বরগুনায় ৪০৫৬ জন আনসার-ভিডিপি প্রস্তুত ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির ঘাড় ধরে টান দেবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান ‘গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষে ভোট দিন’–এবিএম মোশাররফ হোসেন “সমগ্র বাংলাদেশই আমার ঠিকানা” বাউফলে, ডা.শফিকুর রহমান (পটুয়খালী-২) ডঃ শফিকুল ইসলাম মাসুদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
বিসিসির বকেয়া ৪২ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে অনীহা

বিসিসির বকেয়া ৪২ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে অনীহা

Sharing is caring!

অনলাইন ডেক্স:  দীর্ঘদিন ধরে পরিশোধ না হওয়ায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের অনুকূলে অর্ধশত কোটি টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল বাকি রয়েছে। তাই বিদ্যুৎ বিভাগ বরিশাল নগরের সড়ক বাতিসহ পানির পাম্পের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।

যা নিয়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হলেও বর্তমান পরিষদ গোটা বকেয়ার দায় নিতে রাজি নয়।

তবে নগরবাসীর ভোগান্তি লাঘবে সংযোগ বিচ্ছিন্নের বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন বর্তমান পরিষদের প্রধান সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

বর্তমান পরিষদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী- বরিশাল সিটি করপোরেশনের অনুকূলে মোট ১১২টি বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। যার অনুকূলে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত টানা তিন পরিষদ ধরে সারচার্জসহ মোট বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে ৫৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এরমধ্যে সাবেক মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরনের সময়কালে অর্থাৎ জুন ২০১৩ পর্যন্ত ২০ কোটি ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার ১৫ টাকা বকেয়া ছিল। সেই পরিষদ এক টাকাও পরিশোধ করেনি। এরপরে অক্টোবর ২০১৮ পর্যন্ত সাবেক মেয়র প্রয়াত আহসান হাবিব কামালের মেয়াদকালে নতুন বকেয়া ২১ কোটি ৭৪ লাখ ৫৫  হাজার ৯৩৯ টাকা নিয়ে মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪২ কোটি ১১ লাখ ২৯ হাজার ৮৮ টাকা। যদিও ওই পরিষদ ১ কোটি ৩৩ লাখ ২৮ হাজার ১২২ কোটি টাকা পরিশোধ করে। এর পরবর্তীতে নভেম্বর ২০১৮ থেকে এখন পর্যন্ত বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর আমলে নতুন বকেয়া ১৫ কোটি ৮ লাখ ৪৮ হাজার ১৯৫ টাকা নিয়ে মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৭ কোটি ১৯ লাখ ৭৭ হাজার ১৪৯ টাকা।

বর্তমান পরিষদের দাবি, তাদের আমলে প্রতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ বিভাগের বিলের অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত বর্তমান মেয়রের আমলে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৭০ হাজার ২০৭ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। যা এ যাবৎকালে কোনো মেয়রের আমলে সর্বোচ্চ।

এ পরিষদের প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু বলেন, কোনো কিছু না জানিয়ে হঠাৎ করে এভাবে সড়ক বাতি ও পানির পাম্পের বৈদ্যুতিক লাইনের সংযোগ কেটে দেওয়া হলো। নগরাবাসীকে এভাবে দুর্ভোগে ফেলাটা আমরা মনে করি সেচ্ছাচারিতা ও হটকারী সিদ্ধান্ত। বকেয়া যে শুধু বরিশাল সিটি করপোরেশনের রয়েছে এমনটা নয়, ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, গাজীপুর, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনেরও কোটি কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। কিন্তু তাদের অবস্থা তো আমাদের মতো হয়নি। ২০২১ সালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদের সই করা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এক সভার রেজুলেশনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন- সেখানে পরিষ্কার বলা হয়েছে যেসব পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে তা পরিশোধ না করলে সড়কবাতি ব্যতিত অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা। এছাড়া ওই রেজুলেশনে বলা হয়েছে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন বকেয়া বিদ্যুৎ বিল এককালীন পরিশোধ না করতে পারলে কিস্তিতে পরিশোধ করার কথা এবং প্রয়োজনে সারচার্জ মওকুফের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের নিকট প্রস্তাব দিলে মওকুফের ব্যবস্থা করার কথা। যার কোনটিই মানেনি স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, জনগণ আমার প্রতি খুশি, তাদের অখুশি করার জন্য এমনটা হতে পারে। লোকাল ফান্ডের টাকা দিয়ে কর্মচারী বেতন ও উন্নয়নমূলক কাজ করতে হচ্ছে, তবে সরকারি প্রজেক্টের টাকা আসলে এতো বিদ্যুৎ বিল দেওয়া ব্যাপার ছিল না। তারপরও বলেছি আমি চলে যাওয়ার আগে যতটুকু পারি পরিশোধ করে যাবো।

তিনি বলেন, আমাকে ২৫ কোটি টাকা দিতে বলা হচ্ছে, কিন্তু আমার সময় এ ২৫ কোটি টাকার বকেয়াই তো হয় নাই। আগের মেয়রদের সময়ের বকেয়া তারা কেন আদায় করেননি। তখন যে টাকা করপোরেশনের আয় হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে সেই বিলগুলো দেওয়ার কথা ছিল। আমি শপথ নেওয়ার পর থেকে দায়-দায়িত্ব নিতে পারি, তার আগেরটা তো আমার না।

এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে- সিটি করপোরেশনের কাছে ওজোপাডিকোর প্রায় ৫৯ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিমাণ বাড়ছে, গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে শতাধিক চিঠি দিয়েও এর সমাধান হয়নি। বকেয়া টাকা আদায় না হওয়ায় তারা শহরের ১৫টি সড়কের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © crimeseen24.com-2024
Design By MrHostBD