কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ব্যবসায়ীর দোকান এবং বাসায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নারী সহ তিনজন আহত হয়েছে।
আহতরা হলেন ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার কালাম সরদার(৫৫), মো. আনিছুর রহমান (৫২) এবং রোকসানা আক্তার(৪৬)। গুরুতর আহত কালাম সরদারের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ সময় মুদি দোকানের ক্যাশ থেকে দশ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ির বাসার দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে নারীকে পিটিয়ে যখম করে স্বর্ণের চেইন নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রবিবার রাত ৯টার দিকে কলাপাড়া পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ড স্লুইস এলাকায় এ হামলার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী এবং ভুক্তভোগীদের সুত্রে জানা গেছে, স্থানীয় মুদি দোকানদার মো.আনিসুর রহমান কলাপাড়া পৌর ওলামা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। রাত ৯টার দিকে তিনি দোকানে বসা ছিলেন।
হঠাৎ ২০ জনের একটি দল কাউন্সিলর কালাম সরদারকে ধাওয়া দিলে তিনি দৌড়ে ওই মুদি দোকানে ঢুকে যান। এ সময় সন্ত্রাসীরা কালাম সরদারকে মারধর করে সেই সাথে আনিচুর রহমানকেও মারধর করেন।
কালাম সরদার পিছনের দরজা দিয়ে দৌড়ে আনিছুর রহমারে ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং দরজা বন্ধ করে দেয়। এ সময় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে রড দিয়ে তাকে পিটাতে থাকেন।
তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে রইলে সন্ত্রাসীরা আনিছুর রহমানের স্ত্রী রোকসানা আক্তার কে রড় দিয়ে আঘাত করেন। এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
এ সময় ঘরে থাকা তার নাতী ৫ বছরের শিশু আয়ান ভয় পেয়ে চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে পরেন। কলাপাড়া পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মো.নাইম(২৫) পিতা মো.ইসমাইল, বাদুরতলী এবং নীলগঞ্জ এলাকার মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস অনার্স কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো.বেল্লাল(২২) সহ ২০ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী এ হামলা চালিয়েছেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী রোকসানা আক্তার বলেন, আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি অনেকগুলো লোক বাসার মধ্যে ঢুকে তান্ডব চালাচ্ছে। এ সময় আমি নাতিকে ভাত খাওয়াচ্ছিলাম। তারা রড দিয়ে আমার ডান হাতের কনুইর উপর আঘাত করে।
এতে সেখানে ফ্যাক্সার হয়। আমার গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের স্বর্নের চেইন খুঁজে পাচ্ছি না। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাবসায়ী আনিছুর রহমান বলেন, ছোট থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত রয়েছি। কোনদিন কোন সুযোগ গ্রহণ করিনি।
বিনিময়ে আজ এই উপহার পেয়েছি। দোকান থেকে যখন ঘরে গিয়েছি এসে দেখি ক্যাশে থাকা দশ হাজার টাকা নেই। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। ৯নং ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা মো.বশির উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে এখানে এসেছি।
এলাকাবাসীর কাছে শুনেছি। এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। কলাপাড়া ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো.আফজাল হোসেন বলেন, আনিছ ভাই এবং তার পরিবারের উপর এ ধরনের হামলা কোনভাবেই গ্রহণ যোগ্য নয়।
কলাপাড়া ওলামা দল এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপে নিবে।কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী ইয়াদুল ইসলাম তুষার বলেন, খবর পেয়ে আমি সেখানে গিয়েছি।
কিছু ভাংচুরের আলামত পেয়েছি। উপজেলা বিএনপি এবং পৌর বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে জানাব। কলাপাড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সী বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনভাবেই কাম্য নয়।
কিছুদিন ধরে আমি ঢাকায় আছি। কলাপাড়া বিএনপি বিষয়টি তদন্ত করবে। কলাপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী মো.ফারুক বলেন, কোন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান এবং বাসাবাড়িতে হামলা করা এটা কলাপাড়া বিএনপি কখনওই সাপোর্ট করেনা।
আমি সকালে সেখানে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করব। কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার বলেন, খবর পেয়ে সাথে সাথে ছাত্রদলের সভাপতিকে সেখানে পাঠিয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
কলাপাড়া থানার ওসি(তদন্ত) ইলিয়াস হোসেন বলেন, অসুস্থ নারী সদস্যকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মোয়াজ্জেম হোসেন
কলাপাড়া