সর্বশেষ:
কলাপাড়ায় ৬৫ বছরের দখলীয় জমির বসত বাড়িতে হামলা ও মাছের ঘের লুটের অভিযোগ কলাপাড়া পৌর মহিলা দলের ০৪ নং ওয়ার্ডের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরের দাবিতে কলাপাড়ায় মানববন্ধন বরিশালে নূরিয়া আইডিয়াল স্কুলে মূল্যায়ন উৎসব ও বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত কলাপাড়ায় ২ যুবতী নারীর বিরুদ্ধে বাসর ঘর সাজিয়ে সমকামিতায় লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ মা হ/ত্যা মামলায় বাবার যাবজ্জীবন নিয়ে মেয়ে সংবাদ সম্মেলন বরিশালে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও মানুষের চক্ষু চিকিৎসা সেবা সুরক্ষায় কমিটি গঠন বরিশালে আগমনে প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুরকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ বরিশালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণী আসমা আক্তার সুমি নিখোঁজ পটুয়াখালীতে বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ীঘড় দখল সন্ত্রাসী হামলা

কলাপাড়ায় ৬৫ বছরের দখলীয় জমির বসত বাড়িতে হামলা ও মাছের ঘের লুটের অভিযোগ

Reporter Name / ১০ Time View
Update : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৬৫ বছরের ভোগ দখলীয় জমির বসত বাড়িতে হামলা ও মাছের ঘের লুটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আবদুল বারেক হাওলাদার (৮২) নামের এক ব্যাক্তি।

শনিবার(১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর বারোটায় কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবদুল বারেক হাওলাদার বলেন, তিনি মহিপুর থানার বেতকাটা চর গ্রামের একজন ভূমিহীন কৃষক।

তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) সরকারের নিকট থেকে সেটেলমেন্ট কেস নং ৩২৭কে/১৯৫৪-৫৫ সালে যাহার মিস কেস নং ১৬১কে/১৯৬৬-৬৭ নং বন্দোবস্ত রুজু করিয়া দরখাস্তকারীর নিকট হইতে সেলামী গ্রহনে কলাপাড়া উপজেলার ৩৮নং জে.এল সোনাপাড়া মৌজা ও কিসমতে ১নং খাস খতিয়ানে ২৮৩৪নং দাগে ৭.০১ একর ভূমির বার্ষিক ২২.৫০/- টাকা খাজনা ধার্য্যে কবুলিয়ত ৩২৭কে/১৯৫৪-৫৫ সালে খাস জমি কায়েমী বন্দোবস্ত মূলে কবুলিয়ত প্রাপ্ত হন।

সরেজমিনে দখল বুঝে পেয়ে তিনি কিছু জমিতে বাড়ি ঘর, পুকুর, বাগান নির্মান করিয়া পরিবার পরিজন সহ স্থায়ীভাবে বসবাস করেন এবং নাল জমি চাষাবাদ ও ঘের করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করে আসছেন। তবে তার প্রতিপক্ষ মাঝেরপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৪০), ফোরকান (৪০), ফারুক, নেছার উদ্দিন (৩৫), বেতকাটা গ্রামের আঃ রহিম হাওলাদার, মোঃ সোনা মিয়া, মোঃ রুবেল হাওলাদার (২৬), বেল্লাল (৩০), নয়ন (২৭) ও মোনসাতলী গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৩০) অন্যায়ভাবে ওই জমি বৌলতলী মৌজার জমি দাবী করে ২০১২ সালে তার উপর হামলা করেন।

পরে তিনি পটুয়াখালী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া এ জমি সংক্রান্ত বিষয়ে ২০০৭ ও ২০১৪ সালে কলাপাড়া বিজ্ঞ সহকারী জজ দুটি দেওয়ানী মামলা করেন করেন।

ওই মামলায় বিজ্ঞ আদালত ২০১৮ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারী তার পক্ষে রায় দেয়। তবে বিবাদীপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী আপীল ৪৬/১৮, ৪৭/১৮ নং মোকদ্দমা দায়ের করেন। আপীল মোকদ্দমায় নিম্ন আদালতের আদেশ বাতিল করিলে তিনি ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের সিভিল রিভিশন নং ৩০৪৭/১৯ ও ৩০৪৮/১৯ দায়ের করেন।

মহামান্য হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নিম্ন আদালতের আদেশ স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশটির রুলটি নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্ধিত করা হোক মর্মে নির্দেশ প্রদান করেন। ওই মামলার আদেশের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তার প্রতিপক্ষরা তার কাছে আগে থেকে ২০ লাখ টাকা ও ১.৫৩ একর জমি চাঁদা দাবি করে।

তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৩০ জুন তার ঘর বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে। পরে তিনি কলাপাড়া বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫৬৪/২৬ ও ৬২৫/২০২৬ নং মামলা দায়ের করেন।

বিজ্ঞ আদালত মামলাটি ওসি মহিপুর থানায় তদন্তের নির্দেশ দিলে ওসি মামলাটি এস.আই মোঃ জাকির হোসেন ও অন্য এক পুলিশের নিকট তদন্তের নির্দেশ দেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় তার আসল ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে এবং এখন পর্যন্ত আইনানুগ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। তার প্রতিপক্ষরা আরো উৎসাহিত হয়ে তাকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শণ করে।

তারা ১১ সেপ্টেম্বর লাঠি, সোটা, খোন্তা, কোদাল ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার বাড়িতে ঢুকে তার বসত ঘর ভাংচুর করে মাছের ঘেরের বাধ কেটে প্রায় ৩ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়া যায়। বিষয়টি তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অবহিত করলে তারা উল্টো প্রতিপক্ষের পক্ষ নিয়ে তারা জমি ছেড়ে দিতে বলে।

এতে তার ব্যাপক ক্ষতি হয়। বর্তমানে তিনি তার প্রতিপক্ষের তান্ডবে স্ত্রী, পুত্র পরিজন সহ বাড়ি ছাড়া হয়ে ঘুরছেন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে। এ বিষয়ে তিনি মহিপুর থানায় অভিযোগ করলে এক বিএনপি নেতার হস্তক্ষেপে থানা পুলিশ কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।

বর্তমানে তিনি পরিবার পরিজন নিয়া মানবেতর জীবন যাপন করিতেছি। এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা। সে আমাদের বিরুদ্ধে এমপি মহোদয়ের নিকট অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বিষয়টি তদন্তের জন্য তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা বাবুল হাজীর কাছে তদন্ত দিয়েছেন। বিষয়টি তার কাছে তদন্তাধীন আছে। এর আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার শালিস করেছে। কিন্তু তিনি কোন সালিশ মানেনা।

তার দেড় একর জমি কার্ড রয়েছে। কিন্তু সে ০৭ একর জমি দাবি করে। প্রথম কার্ড আমাদের। তাকে জরিপ করতে দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু ভুয়া পর্চা তৈরী করে জমি দাবি করতেছে।

মহিপুর থানার এসআই জাকির হোসেন বলেন, তিনি ৫৩ সালের কার্ড দেখিয়ে ০৭.০১ একর সম্পত্তি দাবি করেন। তিনি যায়গার সিমানা নির্ধারন করে দিতে পারেনা।

যার কারনে তদন্ত রিপোর্ট দিতে দেরি হচ্ছে।

মোয়াজ্জেম হোসেন কলাপাড়া


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category