সর্বশেষ:
কলাপাড়ায় নিখোজের দুইদিন পর শিশুর বস্তাভর্তি ম/র/দে/হ উদ্ধার লিগ্যাল এইডের রায় অমান্য: স্বামীর জমিতে অধিকার চাওয়া বিধবা ও এতিম সন্তানকে জমি বুঝিয়ে দিতে বাধা শ্বশুরের কলাপাড়ায় মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে ১৭টি মন্ডপে দূর্গা পূজার সূচনা কলাপাড়ায় জলাবায়ু পরিবর্তনে ন্যায্য ক্ষতিপুরণের দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি বসতঘরে ঘুমিয়ে থাকা বাবার কোল থেকে ১০ মাস বয়সী শিশু নিখোজ রাখাইন সভাপতিকে মারধরের প্রতিবাদে কুয়াকাটায় সীমা বৌদ্ধ বিহারে পর্যটক দর্শনার্থীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ৪৫তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন হলেন বাউফলের মনামী বাউফলে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ ও শিশুকন্যাকে নির্যাত নের অভিযোগ নিষিদ্ধ সংগঠনসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে সরকার: বাউফলে সেলিমা রহমান কলাপাড়ায় লাথি দিয়ে নারীর গর্ভপাত ও নবজাতকের মৃ/ত্যুর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত এসআরবি’র হাতে গ্রেফতার

লিগ্যাল এইডের রায় অমান্য: স্বামীর জমিতে অধিকার চাওয়া বিধবা ও এতিম সন্তানকে জমি বুঝিয়ে দিতে বাধা শ্বশুরের

Reporter Name / ১০ Time View
Update : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

​স্টাফ রিপোর্টার পটুয়াখালীঃ

বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী গ্রামের ৯ নং ওয়ার্ডের কালীবাড়ী এলাকায় প্রয়াত নুরুল ইসলামের ক্রয়কৃত সম্পত্তি ও প্রাপ্য অধিকার থেকে তাঁর বিধবা স্ত্রী রহিমা আক্তার এবং ১১ বছরের এতিম কন্যা মায়মুনাকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে নুরুল ইসলামের পিতা আব্দুল খালেক ঘড়ামির বিরুদ্ধে।

স্থানীয় শালিশ বৈঠক ও আদালতের নির্দেশিত লিগ্যাল এইডের সমঝোতা অনুযায়ী জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও শ্বশুর তা অমান্য করায় চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা হীনতায় দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী মা ও মেয়ে। ​

সামাজিক শালিশ ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপট ​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামী নুরুল ইসলামের মৃত্যুর পর তাঁর ক্রয়কৃত সম্পত্তি এবং বিধবা স্ত্রী ও সন্তানের প্রাপ্য অধিকার বুঝিয়ে না দিয়ে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন শ্বশুর আব্দুল খালেক ঘড়ামি।

এ নিয়ে আমতলী উকিল চেম্বারে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে একাধিকবার শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে আমতলী ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট থেকে বিবাদীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক পর্যায়ে উকিল নোটিশ পাঠানো হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি।

​কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী স্ত্রী রহিমা আক্তার ও কন্যা মায়মুনার অধিকার রক্ষায় আইনজীবী ও শালিশগণের সহায়তায় প্রায় ১ বছর আগে পটুয়াখালী জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এক পর্যায়ে বিচারক বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার (বিচারক)-এর কার্যালয়ে প্রেরণ করেন।

​লিগ্যাল এইডের মধ্যস্থতা ও সমঝোতা ​গত ০৬/১০/২০২৬ ইং তারিখে পটুয়াখালী চীফ লিগ্যাল এইড অফিসে চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার (বিচারক) মো. রাসেল মজুমদারের উপস্থিতিতে এক মধ্যস্থতা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী: ১. বিবাদী আব্দুল খালেক ঘড়ামী তাঁর নাতনি মায়মুনাকে ১১.৬৫ শতাংশ জমি প্রদান করবেন এবং তাঁর নামে ৫০ হাজার টাকা জমা রাখবেন। ২. বাদীর স্বামীর ক্রয়কৃত জমি, দাদার দেওয়া ১১.৬৫ শতাংশ জমি এবং বিবাদী কর্তৃক পূর্বে ভোগদখলে থাকা জমি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিমাপ করে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

৩. জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর বাদী মামলা প্রত্যাহার করে জমাকৃত ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। ​উভয় পক্ষ স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে এই শর্তাবলি মেনে নিয়ে সমঝোতা পত্রে (Terms of Settlement) স্বাক্ষর করেন। ​সরেজমিনে জমি পরিমাপ ও বিবাদীর রায় অমান্য লিগ্যাল এইডের রায় ও শর্তানুযায়ী গত ১৪/১০/২০২৬ ইং তারিখ সকাল ১০ টায় গুলিশাখালী গ্রামের কালীবাড়ী এলাকায় সরেজমিনে জমি পরিমাপের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

​এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় শালিশদার শাহরিয়ার মাতব্বর, মো. নাসির প্যাদা, নাসির মৃধা, মো. ফোরকান মৃধা, রিয়াজ হাওলাদার, সোহেবুর রহমান, মো. অনিক মৃধা, মো. হানিফ সরদার, মো. কবির হোসেন, সোহেল সরদার, গাজী সরোয়ার, মনিরুল ইসলাম রনি, নজরুল ইসলাম, সেলিম খবির হাওলাদার, মু. হেলাল আহম্মেদ (রিপন)।

এছাড়া উভয় পক্ষের মনোনীত সার্ভেয়ার মো. আবুল হোসেন ও সার্ভেয়ার হাসেম মাওলানা সহ এলাকার দুই শতাধিক সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ​সার্ভেয়ারদ্বয় নিরপেক্ষভাবে সরেজমিনে জমি মেপে লাল পিলার পুঁতে ২৭.২৯ শতাংশ জমি বিধবা রহিমা বেগম ও কন্যা মায়মুনাকে বুঝিয়ে দেন।

তবে জমি পরিমাপ সম্পন্ন হওয়ার পরপরই উপস্থিত শত শত শালিশদার ও সচেতন জনতার সামনে বিবাদী আব্দুল খালেক ঘড়ামি মধ্যস্থতার রায় একতরফাভাবে অমান্য করেন। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন, “এই জমি আমার, আমি কাউকেই এই জমি দেব না।”

এ কথা বলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ​ভুক্তভোগীদের আকুতি ও এলাকার প্রতিক্রিয়া ​স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় রহিমা আক্তার।

আদালতের নির্দেশ ও সরকারি লিগ্যাল এইডের সিদ্ধান্তকেও তোয়াক্কা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুশীল সমাজ। ​এ বিষয়ে স্থানীয় শালিশগণ জানান, সরকারি লিগ্যাল এইড অফিসে উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর এভাবে রায় অমান্য করা আইন ও নীতিমালার চরম লঙ্ঘন।

ভুক্তভোগী বিধবা নারী ও অবোধ শিশুটির আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category