কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দুর্বৃত্তের পরিকল্পিত হামলায় মুজাহিদুল ইসলাম নামের এক এক প্রবাসী উদ্যোক্তার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে।
গত ৩০ জুলাই দিবালোকে বেলা ১১ টার দিকে মোজাহিদুলের জীবন-জীবিকার সব অবলম্বন ধ্বংস করে দেয় এক দুর্বৃত্ত।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পৌরশহরের বাদুরতলী বাঁধঘাট এলাকার মোজাহিদুলের কৃষি খামারে এই নৃশংসতার ঘটনা কলাপাড়ার সকলের মুখে মুখে। কলাপাড়া থানা পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তি রবিউলকে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) গ্রেপ্তার করেছে।কঠোর পরিশ্রম করে সফলতার পথে হাঁটছিলেন মোজাহিদুল ইসলাম।
শিক্ষাজীবন শেষ করে প্রকৌশলী এই অদম্য যুবক চাকরির পেছনে ছুটেননি। প্রবাস জীবন ত্যাগ করে হালাল রোজগার এবং মানবসেবার উদ্দেশ্যে দৃঢ় মনোবল নিয়ে রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে সৌদি খেজুর গাছের বাগান করেছিলেন।
সফলতার মুখও দেখছিলেন। মার্কেটিং শুরু করেছিলেন। যখন সাফল্য ধরা দেয়; ঠিক তখনই এই উদ্যোক্তার স্বপ্ন্ ধুলিস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। এক অমানুষ তার বাগানটি তছনছ করে দিয়েছে। কৃষি খামারের গেট ভেঙে ফলনধরা ১০টি গাছ কুপিয়ে লন্ডভন্ড করে দেয়া হয়েছে। বাদ যায়নি আম, লঙ্গান, লেবু, ফলন্ত অন্তত ১০টি কলাগাছ, মালবেরি গাছ।
মাঝ বরাবর গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। ছড়াসহ অন্তত তিন ছড়া খেজুর কেটে নেয়া হয়েছে। যেন ধ্বংসের তাণ্ডব চালানো হয়েছে।
আর খণ্ডিত গাছগুলো স্বাক্ষীর মতো নির্বিকার দাঁড়িয়ে আছে। মোজাহিদুল এসব দৃশ্য দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে সরকার প্রধানসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের কাছে আকুতি জানিয়েছেন। প্রতিকার চাইছেন। চেয়েছেন যথাযথ বিচার ও ক্ষতিপূরণ।
তিনি সবশেষ বধবার (৫ আগস্ট) কলাপাড়া থানায় একটি এজাহার দাখিল করেছেন। যেখানে একমাত্র আসামি করা হয়েছে বাদুরতলী বাঁধঘাটের ৩২ বছর বয়সী মো: রবিউলকে। গ্রেপ্তার হওয়া রবিউলসহ তার পরিবার একটা মুচলেকাও দিয়েছেন।
যেখানে বলা হয়েছে, জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে মোজাহিদুলের কোন ক্ষতি হলে তার দায় তারা বহন করবেন। কিন্তু মুজাহিদুল ফের দাঁড়াতে পারবেন কিনা তা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। মোজাহিদুল এজাহারে উল্লেখ করেছেন, তার অন্তত ১৫ লাখ ২৭ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত রবিউল তাকে প্রকাশ্যে খুন-জখমের হুমকি দিয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী উদ্যোক্তা মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, আমার শরীরের কোপ দিলেও ক্ষত হয়তো এক সময় শুকিয়ে যেত।
কিন্তু জীবিকার অবলম্বন শেষ করে দেয়ায় তার এখন ভবিষ্যত অন্ধকার হয়ে গেছে। এমনকি ওই বাগানে কিংবা জমির ধারে ফের গেলে মুজাহিদুলকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে।মোজাহিদুল জানান, ২০১৮ সালের সৌদি খেজুরের এই বাগান করার কাজ শুরু করেছেন।
দীর্ঘ লড়াই শেষে ২০২২ সাল থেকে ফল ধরে গাছে। পূর্ণতা আসে। বিক্রি শুরু করেন। ২৪ সাল থেকে খেজুর গাছের চারাও বিক্রি শুরু করেন। স্বাবলম্বীতার পথে হাঁটছিলেন এই উদ্যোক্তা। উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সফল খামারি হিসেবে তাঁকে সম্মানিত করেছে। কিন্তু তার ফার্মের ওপর মানবসৃষ্ট এই বিপর্যয় এখন সব যেন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
মোজাহিদুল জানান, বাদুরতলী বাঁধঘাটে দুই ভাই মিলে ২৭ শতক জমিতে এই বাগানটি করেন। যেখানে বর্তমানে সৌদি খেজুর বড় গাছ রয়েছে অন্তত ৭০টি, চারা গাছ রয়েছে দুই শতাধিক, আর সৌদি খেজুর গাছসহ বিভিন্ন ফলজ গাছের নার্সারি রয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আরাফাত হোসেন জানান, তিনি ঘটনার পরই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি উদ্যোক্তা মোজাহিদুল ইসলামের খামার পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি খুবই কষ্টদায়ক। অমানবিক। ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করা হয়েছে।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাপাড়া থানার এসআই সুজন চক্রবর্তী জানান, একমাত্র আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মোয়াজ্জেম হোসেন
কলাপাড়া