প্রাথমিক শিক্ষায় সেরাদের সেরা মঙ্গল সুখ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

Reporter Name / ১৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
filter: 0; jpegRotation: 0; fileterIntensity: 0.000000; filterMask: 0; module:1facing:0; hw-remosaic: 0; touch: (-1.0, -1.0); modeInfo: ; sceneMode: Night; cct_value: 0; AI_Scene: (-1, -1); aec_lux: 53.0; hist255: 0.0; hist252~255: 0.0; hist0~15: 0.0;

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :

বরিশাল বিভাগ তথা দক্ষিণাঞ্চল পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আধুনিক প্রাথমিক শিক্ষার বাতিঘর ‘মঙ্গল সুখ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’।

বর্তমান সরকারের নতুন শিক্ষা কার্যক্রমের সাফল্যের বার্তা ছড়িয়ে বিদ্যালয়টিতে সাফল্যের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে প্রাক-প্রাথমিক থেকে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম।এখানে আধুনিক অবকাঠামো এবং তথ্য-প্রযুক্তি সংযুক্ত উপকরণ দিয়ে চলছে পাঠদান।

কলাপাড়া পৌরশহরের ৮নং ওয়ার্ডে অবস্থিত এ বিদ্যালয়ের সামনে আঁকা রয়েছে বায়ান্ন থেকে একাত্তর সাল পর্যন্ত ইতিহাস সংবলিত সব ঘটনার নায়ক ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ছবি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্দোলিত করা মীনা-রাজুর কার্টুনের ছবি।

বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষে দেখা যায় শিশুদের খেলাধুলার সামগ্রী ও লেখাপড়ার সামগ্রিক বিষয় দেয়ালে আঁকা। জাতীয় ফুল-ফলসহ সব স্তরের শিক্ষা প্রদানের জন্য থরে থরে সাজানো আছে মাটির তৈরি সামগ্রী।

রয়েছে শিশুদের খেলার বিভিন্ন সামগ্রী-স্লিপার, দোলনা, ঘোড়া, হাতি, সিংহ, জিরাফসহ বিভিন্ন জীবজন্তু। যেন একটি শিশুতোষ শিশুপার্ক।

প্রথম শ্রেণিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের পুরো বই দেয়ালে আঁকা। প্যারেড গ্রাউন্ডে দেখা মিলবে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত ও সমাবেশ। ঘণ্টা বাজার  সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা ছুটে যায় যার যার শ্রেণিকক্ষে।

শ্রেণি কক্ষে শিক্ষক প্রবেশ করতেই সমস্বরে অভিবাদন জানানো হয় । শিক্ষকরা কুশল বিনিময় শেষে প্রজেক্টরের মাধ্যমে সাদা পর্দার ওপর মাল্টিমিডিয়ার রশ্মি ছেড়ে দেন।

ল্যাপটপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত প্রাথমিক বইয়ের বিষয়ের একটি ভিডিও ছেড়ে দেওয়া হয় সবার দেখার জন্য। এরপর মাল্টিমিডিয়ার আলোকরশ্মি বন্ধ করে ভিডিওর খুঁটিনাটি বিষয় পুন:আলোচনা করেন শিক্ষক ।

এরপর শিক্ষার্থীদের বলা হয় ভিডিওতে দেখা বিষয়াবলি দলগতভাবে আলোচনার জন্য। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ল্যাপটপে গ্রহণ করেন শিক্ষক। এই পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চমৎকারভাবে পরিচালিত হচ্ছে। জানা যায়,  উন্নত ও আধুনিক শিক্ষাদানের অনন্য স্বীকৃতিস্বরূপ বিদ্যালয়টি ২০২৪ ও ২০২৬ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। বর্তমানে সরকারের ভিত্তিমূলক শিখন বা FLN (Foundational Literacy and Numeracy) কার্যক্রম বাস্তবায়নেও প্রাথমিক বিদ্যালয়টি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে দেখা যায় যে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জনের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। গত তিন বছরে শিক্ষার্থীদের এফএলএন কার্যক্রমে এই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

​পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বাংলা বিষয়ে শতভাগ দক্ষতা অর্জনের পর্যায়ে পৌঁছেছে। ​তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণিতেই গণিতে ৯৫% অগ্রগতি বজায় রয়েছে। ​পড়াশোনার পাশাপাশি এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও সহ-শিক্ষা কার্যকলাপে অনন্য রেকর্ড গড়ছে।

২০২৩ সালে অল বাংলাদেশ এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থান অর্জন করে বিদ্যালয়টি এবং ২০২২ সালে শতভাগ বৃত্তি লাভ করে। খেলাধুলার প্রতিযোগিতায় প্রতি বছর উপজেলা ও জেলায় অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে প্রথম স্থান বজায় রাখে।

সম্প্রতি ২০২৬ সালে বিভাগীয় পর্যায়ের বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে কলাপাড়ার এই বিদ্যালয়টি বিভাগীয় স্তরে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে, যা পুরো পটুয়াখালী জেলায় প্রথম। ​একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জন্য রয়েছে পিয়ানো, হারমোনিয়ামসহ অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র ও খেলাধুলার সরঞ্জাম।

পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধরনের বই রয়েছে বিদ্যালয়ে স্থাপন করা গ্রন্থাগারে। শিশু শিক্ষার্থীদের আদর্শিক মনোভাবাপন্ন করে তুলতে রয়েছে ‘কাব স্কাউট’-এর একটি গ্রুপ।

এই বিদ্যালয়ের কাব স্কাউটরা জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে অনন্য সাফল্য দেখিয়েছে। বিগত দশ বছরে শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ডসহ মোট ১০৪টি জাতীয় স্তরের পুরস্কার অর্জন করেছে তারা। শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয় স্তরের প্রতিযোগিতাতেই বিগত পাঁচ বছরে ১২২টি শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তি ঘটেছে।

এই বিদ্যালয়ের সামগ্রিক অর্জন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামিম আহমেদ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করতে প্রথম ধাপে দেশের তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মঙ্গল সুখ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাবনার ভাঙ্গুরা বোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকার উত্তর দারিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর অন্যতম।

বিদ্যালয়ে পাঠদানে আধুনিক ও তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের অভিভাবক নাজমুল আহসান রিয়াদ বলেন, আমার ছেলে এই স্কুলের শিক্ষার্থী।

এখানে শিক্ষকরা নিয়মিত শিখন মূল্যায়ন, পাঠভিত্তিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিখন পদ্ধতি অনুসরণ করছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ, লিখন ও গণনাভিত্তিক দক্ষতার ইতিবাচক বিকাশ ঘটছে। প্রধান শিক্ষক মোসা, নাজমুস সাকিব খান কনা  বলেন, ‘বিদ্যালয়টি ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

পরবর্তীতে এটি ১৯৯৫ সালে ‘আদর্শ বিদ্যালয়’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে এবং ২০০৫ সালে ‘মডেল বিদ্যালয়’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ মোট ১৬ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭৬৮ জন, যার মধ্যে বালক ৩৪৫ জন এবং বালিকা ৪২৩ জন। ভিত্তিমূলক শিখন নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।

নিয়মিত মূল্যায়ন ও অভিভাবকদের সহযোগিতার কারণে শিক্ষার্থীরা দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করছে।

ভবিষ্যতেও এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।’ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. শাহিদা বেগম বলেন, ‘FLN কার্যক্রমসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে কলাপাড়ার মঙ্গল সুখ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা, ওই বিদ্যালয়ের সফলতার মাধ্যমে সরকারের আধুনিক শিক্ষা কার্যক্রম সফল হবে।

‘মোয়াজ্জেম হোসেন

কলাপাড়া


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category