নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রজনন সুরক্ষা এবং রপ্তানির সম্ভাবনা সম্প্রসারণে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।
তিনি বলেছেন, ইলিশ দেশের অন্যতম মূল্যবান মৎস্যসম্পদ। এ সম্পদের উৎপাদন বাড়াতে মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা এবং নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
শুক্রবার বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে। মাছের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে হলে মৎস্য খাতের অন্যতম প্রধান সম্পদ ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে হবে। বরিশাল অঞ্চলে ইলিশের প্রাপ্যতা বেশি। এ জন্য মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে।
জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ীসহ মৎস্য খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি ও মৎস্য খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।
এদিকে, মা ইলিশ সংরক্ষণে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার। তিনি নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে জেলেদের প্রতি আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। সংরক্ষণ কার্যক্রম সফল করতে জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
এ সময় মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।