সর্বশেষ:
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শাড়ি ও নগদ টাকা প্রদান করলেন মোশাররফ হোসেন এমপি কলাপাড়ায় নিখোজের দুইদিন পর শিশুর বস্তাভর্তি ম/র/দে/হ উদ্ধার লিগ্যাল এইডের রায় অমান্য: স্বামীর জমিতে অধিকার চাওয়া বিধবা ও এতিম সন্তানকে জমি বুঝিয়ে দিতে বাধা শ্বশুরের কলাপাড়ায় মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে ১৭টি মন্ডপে দূর্গা পূজার সূচনা কলাপাড়ায় জলাবায়ু পরিবর্তনে ন্যায্য ক্ষতিপুরণের দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি বসতঘরে ঘুমিয়ে থাকা বাবার কোল থেকে ১০ মাস বয়সী শিশু নিখোজ রাখাইন সভাপতিকে মারধরের প্রতিবাদে কুয়াকাটায় সীমা বৌদ্ধ বিহারে পর্যটক দর্শনার্থীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ৪৫তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন হলেন বাউফলের মনামী বাউফলে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ ও শিশুকন্যাকে নির্যাত নের অভিযোগ নিষিদ্ধ সংগঠনসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে সরকার: বাউফলে সেলিমা রহমান

পটুয়াখালীর জৈনকাঠীতে মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ, কাশীপুরের সাক্ষী হতবাক এলাকাবাসী

Reporter Name / ৫৭ Time View
Update : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, এস আল-আমিন খাঁন পটুয়াখালীঃ

পটুয়াখালী সদর উপজেলা জৈনকাঠী ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে পুর্ব শত্রুতার জের ধরে কাশিপুরের সাক্ষী দিয়ে মিথ্যা ও কাল্পনিক মামলায় হয়রানির অভিযোগ উঠেছে সালাম তালুকদার এর বিরুদ্ধে।

নেপথ্যে হানিফ তালুকদার, আনোয়ার তালুকদার ও সেলিম তালুকদার গং। মানলা সূত্রে, ঘটনার দিন গত ২৭/০৪/২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ৪ টার সময় অথচ ১ নং সাক্ষী চিকিৎসাধীন অবস্থায় হসপিটালে ২ দিন আগেই ভর্তি দেখিয়ে ঘটনার সময় প্রতিবেশীদের সাক্ষাৎ না করে নিজেদের পরিবারের লোকজনকে সাক্ষী বানিয়ে সাজানো মামলা দায়ের করেছেন অভিযুক্ত সালাম তালুকদার।

এ সময় সালাম তালুকদার পটুয়াখালী পৌর শহরের ৪ নং ওয়ার্ড ভারা বাসায় অবস্থান করছিলেন বলেও উল্লেখ করেন। এনিয়ে এলাকাবাসী হতবাক হসপিটালে ভর্তি থেকেই হয়েছে ১ নং সাক্ষী হানিফ তালুকদার।

অন্যান্য সাক্ষী রুমা বেগম, শিল্পী বেগম, মিনারা বেগম, আনোয়ার তালুকদার, আলেয়া বেগম, সেলিম তালুকদার উভয় সাক্ষীরা একই পরিবারের লোকজন। ঘটনার দিন সনয় পটুয়াখালী পৌর শহরের ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন তারা।

এদিকে  ৮ নং সাক্ষী পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের নাম বিহীন কর্তব্যরত চিকিৎসক। শত্রুতার জের ধরে সালাম তালুকদার বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ রাসেল তালুকদার, ইমরান, সবুজ, দুলাল, পলাশ তালুকদার, আবুল তালুকদার ও ইমন সিকাদারকে আসামি করে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সি,আর মামলা নং- ১৮/২৬ ইং।

আসামিদের অভিযোগ ঘটনার সাক্ষীরা সবাই পটুয়াখালী শহরে ভাড়া থাকেন অথচ ঘটনার দিন প্রতিবেশীরা উপস্থিত ছিলো তাদের মধ্যে কাউকে সাক্ষী করা হয়নি এর কারন ঐদিন আসামি পলাশ গুরুত্বর আহত অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল ভর্তি ছিলেন তার পিতা আবুল তালুকদার ও ভাতিজা ইমরান বরিশাল ছিলেন এছাড়াও সবুজ, রাসেল দুলাল বাড়িতেই ছিলেন না।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১ নং সাক্ষী হানিফ তালুকদার কে আসামিদের দেখে ফেলায় তাকে কুপিয়ে জখম করে এবং ঐদিন সাক্ষীরা সবাই বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

পরে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে ফায়ার সার্ভিসের টিম আগুন নিয়ন্ত্রনে আনেন এবং ঘরের মধ্যে থাকা সকল মালামাল আলমারি, সুকেজ, খাট, স্বর্নলংকার ও নগত টাকা পুরে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত হানিফ তালুকদার কে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের নিকট জানাগেছে, রাতের বেলা আগুন দেখে প্রতিবেশীর এগিয়ে আসে এবং সেখানে আসামি পক্ষ কিংবা বাদী ও সাক্ষীর কোন লোকজন ছিলো না। বরং ঘটনার দুইদিন আগে ১ নং সাক্ষী হানিফ তালুকদার পলাশ তালুকদারকে কুপিয়ে জখম করায় তার পেটের ভুরি বেরিয়ে আসে এবং পলাশ মারা গিয়েছে বলে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

ফায়ার সার্ভিসের টিম এখানে কখনও আসেনি এমনকি এই রাস্তা দিয়ে আসা সম্ভব নয় বলে জানান ঘটনার দিন উপস্থিত একাধিক প্রতিবেশীরা।

এদিকে মামলায় ঘটনার দিন ২৭/০৪/২৬ ইং উল্লেখ করা হয়েছে অথচ হানিফ তালুকদার কে ঘটনার দূইদিন আগে ২৫/০৪/২৬ ইং তারিখ ভর্তি দেখানো হয়েছে এবং সাক্ষীরা সবাই পটুয়াখালী শহরের বাসায় ছিলো আর আসামি পলাশ অপারেশন থিয়েটারে সবকিছু যেন কাশিপুরের সাক্ষীর মত ঘটনা ঘটেছে এমন সাজানো ও নাটকীয় ঘটনায় হতবাক এলাকাবাসী ।

এছাড়াও ঘরে থাকা স্টিলের সুকেজ পাশের বাড়িতে গত ১ মাস আগেই বিক্রি করার সত্যতা পাওয়া গেছে। বাকি মালামাল গাড়ি ভরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে।  একটা পরিত্যক্ত ঘরে আগুন দিয়ে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি আসামিদের।

আসামিরা আরও অভিযোগ করে বলেন, পলাশকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২৫/০৪/২৬ ইং তারিখ কালিকাপুর ইউনিয়নের ওয়াজেদ গাজী বাড়ির সামনে হানিফ তালুকদার সহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে এতে তার পেটের ভুরি বের হয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ ও ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন এবং একটি মামলাও চলমান রয়েছে। ঐ মামলায় হানিফ তালুকদার ও সালাম গং আসামি রয়েছে।

২৫/০৪/২৬ ইং তারিখ পলাশ তালুকদার কে গুরুত্বর অবস্থায় উদ্ধার করে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রোগীর অবস্থা আশংকাজনক দেখে কর্মরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেলে রেফার করেন। এদিকে একই তারিখে হানিফ তালুকদার ও পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি হন।

পরের দিন পলাশ তালুকদার মারা যাওয়ার ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পরলে রাতের আধারে পরিত্যক্ত ঘরে আগুন দিয়ে অপারেশন থিয়েটারে থাকা রোগী সহ নিজ পরিবারের লোকজনকে কাশিপুরী সাক্ষী বানিয়ে মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করা হয়।

যাহাতে করে আসামি হানিফ তালুকদার গং কাউন্টার মামলা দায়ের করতে পারেন এবং নিজেদের অপরাধ ধামাচাপা দিয়ে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে পারে।

উক্ত নাটকীয় ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং মিথ্যা হয়রানি মামলার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে নিকট মামলাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ভুক্তভোগী আসামি পক্ষ ও প্রতক্ষ সাক্ষীরা।

এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন পটুয়াখালী সদর থানার এসআই শহিদুল ইসলাম। তবে এপর্যন্ত কোন তদন্ত রিপোর্ট করা হয়নি এবং মেডিকেল রিপোর্ট পর্যন্ত আনা হয়নি বলে জানাগেছে। এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি কয়েকবার ঘটনাস্থলে গিয়েছি মেডিকেল রিপোর্টের জন্য বরিশাল গিয়েছি তবে পলাশ নিজ শরীরে উপস্থিত না হলে মেডিকেল রিপোর্ট আনা সম্ভব নয়।

পুলিশ সঠিক সময়ে তার সঠিক তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করবে বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে মিথ্যা মামলা করার অভিযোগের বিষয়ে সালাম তালুকদার ও হানিফ তালুকদার গং এর নিকট জানতে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য- সরেজমিনে মামালর সাথে ঘটনার বহু অমিল খুঁজে পাওয়া গেছে। প্রতিবেদকের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম এর সার্থে বিজ্ঞ আদালতে পেশ করা যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category