পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
‘ঘুষ নয়, তদবির নয় মাত্র ৫৬ টাকায় পুলিশে চাকরি।’ এমন বার্তাকে সামনে রেখে পটুয়াখালীতে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে ফেব্রুয়ারি-২০২৬ ব্যাচের নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ। পটুয়াখালী জেলার ২৯টি শূন্য পদের বিপরীতে অনলাইনে আবেদন করেন মোট ২ হাজার ১৩৯ জন চাকরিপ্রার্থী।
এর মধ্যে মেধা কোটায় পুরুষ ১ হাজার ৯২২ জন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৮ জন, শারীরিক প্রতিবন্ধী কোটায় ৩ জন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটায় ৩ জন এবং নারী মেধা কোটায় আবেদন করেন ২০৩ জন। গত ৫ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়।
এরপর ১৮, ১৯ ও ২০ মার্চ পটুয়াখালী পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত হয় মাঠ পর্যায়ের শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা। প্রথম দিন পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ৩২৩ জন পুরুষ ও ১৫৩ জন নারীসহ মোট ১ হাজার ৪৭৬ জন প্রার্থী।
তিন দিনব্যাপী মাঠ পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। উচ্চতা, ওজন, শারীরিক সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় মানদণ্ড যাচাই শেষে ৫১৭ জনকে যোগ্য ঘোষণা করা হয়। যোগ্য প্রার্থীরা সরকারি নির্ধারিত মাত্র ৫৬ টাকা জমা দিয়ে লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র সংগ্রহ করেন।
পরে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ৪৯৮ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৯৩ জন প্রার্থী। পরবর্তীতে লিখিত, মৌখিক পরীক্ষা ও চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষে ২৯ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। পাশাপাশি অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে আরও ৫ জনকে।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্যে মেধা কোটায় পুরুষ ২৩ জন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ১ জন, শারীরিক প্রতিবন্ধী কোটায় ১ জন এবং নারী মেধা কোটায় ৪ জন রয়েছেন। অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন মেধা কোটার ৪ জন পুরুষ প্রার্থী।
নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (১৮ মে) সকালে পটুয়াখালী পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে নবনিযুক্ত সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় জেলা পুলিশ প্রশাসন।
এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোঃ আবু ইউসুফ বিপিএম। পুলিশ সুপার মোঃ আবু ইউসুফ (বিপিএম) বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি।
কোনো ধরনের তদবির, অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেন ছাড়াই সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছে। যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা দেশের সেবায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।
নবনিযুক্ত কয়েকজন প্রার্থী বলেন, স্বল্প খরচে, হয়রানিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চাকরি পেয়ে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। তারা এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানান।