কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
কমিটি গঠনের দুই দিনের মাথায় কলাপাড়া পুজা উদযাপন পরিষদের আহবায়কের পদত্যাগে হিন্দু ধর্মালম্বীদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় কার্যক্রমে দলীয় প্রভাব মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই।
জানা গেছে, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ পটুয়াখালী জেলা শাখার স্বাক্ষরিত প্যাডে কলাপাড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের কমিটি গঠিত হয়েছিল (৮ই আগস্ট ২০২৬) শুক্রবার ।
এতে শিক্ষক অবনী কুমার রায়কে আহবায়ক ও নীলরতন কুন্ডু নিলয়কে সদস্য সচিব নির্বাচিত করে ৪৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটি ঘোষণার পরপরই যুবদল নেতা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ সিকদার কালা ও সাবেক কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি সজল সমদ্দারের নগ্ন হস্তক্ষেপ শুরু হয়।
পরদিন সকালেই লালুয়া জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পূজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক অবনী কুমার রায়কে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি প্রদান করেন।
পরবর্তীতে কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের এক নেতার হস্তক্ষেপে বিএনপি নেতা দেবাশীষ সিকদার কালা ও সজল সমাদ্দার পূজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক অবনী কুমার রায়কে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি সাজিয়ে ১০/৮/২০২৬ অব্যাহতি নিতে বাধ্য করেন যেটা কল রেকর্ডে প্রমাণ রয়েছে।
অপরদিকে নবনির্বাচিত পরিষদের কমিটিকে বেকায়দায় ফেলতে কালা এবং সজলের সাথে হাত মিলিয়ে পুজা উদযাপন ফ্রন্টের সহ-সভাপতি (ছদ্মবেশে) মনিলাল পাল ফ্রন্টের পরিচয় গোপন করে সম্মানিত লোক দাবি করে পূজা উদযাপন পরিষদ কলাপাড়া উপজেলা শাখা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক পদ পাওয়ার জন্য কমিটি গঠনের তিনদিন পূর্বে নিজে এসে পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য সচিব ও সংবাদকর্মী নীলরতন কুন্ডু নিলয়ের কাছে অনুরোধ করেন।
পরবর্তীতে কমিটি গঠনের পরপরই পরিষদের সুসজ্জিত ও শক্তিশালী কমিটিকে বিতর্কে সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ৯/৮/২০২৬ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতি চেয়ে গণমাধ্যমের কাছে না দিয়ে সজল সমদ্দারের কাছে অব্যাহতিপত্র(পদত্যাগপত্র) জমা দিয়ে আইন বিরোধী কাজ করেন যেটা কল রেকর্ডে প্রমাণ রয়েছে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিষদকে পকেট কমিটি আখ্যায়িত করে উক্ত কমিটির সকল সদস্যকে একযোগে পদত্যাগ করতে অনুরোধ করে অনধিকার চর্চা করে স্থানীয়দের মাঝে ভীতির সঞ্চার করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনেকেই জানান, সনাতন ধর্মালম্বীদের এই ধর্মীয় বিষয়ে দলীয় হস্তক্ষেপে তারা মর্মাহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে তারা কলাপাড়া বিএনপি এবং সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের সহযোগিতা কামনা করছেন।
কলাপাড়া পুজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব সংবাদকর্মী নীলরতন কুন্ডু নিলয় বলেন, পরিষদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও সাজানো অব্যাহতির মাধ্যমে হিন্দু ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করার লক্ষ্যে পরিষদ সদস্যদের মনে ভীতি সঞ্চারের চেষ্টা চলছে।
১৯৮২ সনে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় স্বাধীন সংগঠন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কলাপাড়া উপজেলা শাখার ভাবমূর্তিকে সামাজিকভাবে হেয় করে কার্যক্রম রোধ করতে তাদের এই চক্রান্ত এখনো চলমান রয়েছে।
কলাপাড়া পুজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক অবনী কুমার রায় বলেন, আমি একজন শিক্ষক মানুষ। এই ঝামেলায় আমি জড়াতে চাইনা। তাই স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দিযেছি।
মোয়াজ্জেম হোসেন
কলাপাড়া