ক্রাইমসিন ডেক্সঃ
ভোলার লালমোহন পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে নারিকেল পাড়াকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ বিরোধে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মো. মাসুদ হাওলাদার (৪২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০জন আহত হয়েছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত নারীসহ ৪ জনকে আটক করেছে।
আহতরা হলেন মাসুদ, ফাতেমা, আব্বাস, শাহিন, আবু কালাম, বাবুল, মাসুমা, মনরা, অপরপক্ষে তানবির ও আক্তার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে মাসুদ হাওলাদারের অনুপস্থিতিতে একই বাড়ির ফিরোজের স্ত্রী রেশমা লোকজন নিয়ে মাসুদের বাড়ির ঘরের পাশে একটি গাছ থেকে নারিকেল পাড়তে যান।
এতে মাসুদের মেয়ে মাসুমা বাধা দিলে রেশমা ও তার সহযোগীরা ধারালো দা দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। মাসুমার চিৎকারে তার ফুফু ফাতেমা বেগম (৭০) এগিয়ে এলে তাকেও পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় প্রতিবেশী শাহিন বাধা দিতে এলে তাকেও বেঁধে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরবর্তীতে মাসুদ হাওলাদার বাজার থেকে বাড়ি ফিরে প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ বাধে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা মাসুদকে উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
বরিশাল নেওয়ার পথে রাত ১১:৩০ মিনিটে ভেদুরিয়া লঞ্চঘাটে তার মৃত্যু হয়। নিহত মাসুদ ৭ কন্যাসন্তানের জনক।
জানা গেছে, মাসুদ ও ফিরোজ পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সালিশের মাধ্যমে জমিটি মাসুদকে বুঝিয়ে দেওয়ার পর তিনি সেখানে ঘর তুলে বসবাস করছিলেন।
কিন্তু সেই দখলীয় জমি থেকেই নারিকেল পাড়াকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে রেশমা (৩৫), তার স্বামী ফিরোজ (৪৫), তানভীর (২৫) ও আক্তার (৩০)-কে আটক করেছে। লালমোহন থানার ওসি (তদন্ত) মাসুদ হাওলাদার জানান, “ইতিমধ্যেই ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
এদিকে মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পেয়ে এলাকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম)। তিনি নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং পুলিশ প্রশাসনকে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মরহুমের জানাজায় লালমোহন পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবুল পাটোয়ারী, পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ও পৌর বিএনপির নেতা নিরব হাওলাদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ শরিক হন।