ক্রাইমসিন ডেক্সঃ
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি বনের গাছ কেটে খালে ঝাড় (মাছ ধরার বিশেষ স্থান) তৈরির অভিযোগ উঠেছে।
এতে নৌকা ও মাছ ধরার ট্রলার চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অবৈধভাবে খালে ঝাড় দেওয়ার প্রতিবাদ করায় এক যুবককে মারধর, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ চরবিশ্বাসের ৬ নম্বর সুলিজ এলাকা থেকে বনের মধ্য দিয়ে আগুনমুখা নদী পর্যন্ত একটি খাল প্রবাহিত হয়েছে। স্থানীয় জেলেদের নৌযাতায়াতের অন্যতম প্রধান এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন ছোট-বড় প্রায় ১০০টি মাছ ধরার ট্রলার চলাচল করে।
স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, সম্প্রতি এলাকার কিছু ব্যক্তি খালের দুই পাশের সরকারি বনের গাছ কেটে একাধিক ঝাড় তৈরি করেছেন। এতে খালের স্বাভাবিক নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জেলেরা জানান, ঝাড়ের কারণে পাশাপাশি দুটি ট্রলার চলাচল করতে পারে না। অনেক সময় ট্রলারের পাখা ঝাড়ের গাছের সঙ্গে আটকে ভেঙে যায় কিংবা তলায় আঘাত লেগে নৌযানে পানি ঢুকে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে জেলেদের প্রায় ৩০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে খালের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এতে সাধারণ জেলেদের নিরাপদ নৌযাতায়াত ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
অভিযোগকারী যুব অধিকার পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য মো. জালাল বলেন, বন বিভাগের চরবিশ্বাস বিটের কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে হাবিব, হারুন ও নাঈম নামের তিন ব্যক্তি বনের গাছ কেটে খালে ঝাড় দিয়েছেন। তিনি এর প্রতিবাদ করে ঝাড় অপসারণ করতে বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তাকে মারধরের পাশাপাশি সঙ্গে থাকা নগদ ৩৫ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় ন্যায়বিচার চেয়ে চর শিবা পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. জালাল।
এদিকে সরকারি বনের গাছ কেটে খালে ঝাড় তৈরির ঘটনায় বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে গাছ কেটে খালে ঝাড় তৈরিতে পরোক্ষভাবে সুযোগ করে দিচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বনের গাছ কাটার বিষয়ে উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা শ্রী নয়ন মিস্ত্রি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। তবে খালে ঝাড় দেওয়া দোষের কিছু নয়। গাছ কাটার বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মারধরের অভিযোগের বিষয়ে চর শিবা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. কামাল হোসেন বলেন, “আমরা মারপিটের একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্তের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে।”
স্থানীয় জেলেরা দ্রুত সরকারি বনের গাছ কাটা বন্ধ, খালের অবৈধ ঝাড় অপসারণ করে নৌপথ সচল এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।